• facebook
  • twitter
Sunday, 3 May, 2026

গুজরাতে নতুন প্রযুক্তিতে গবাদি পশুপালনে বদল, বেশি জন্ম নিচ্ছে মেয়ে বাছুর

গুজরাতে নতুন প্রজনন প্রযুক্তিতে ৯০ শতাংশের বেশি মেয়ে বাছুর জন্ম। খরচ কমিয়ে দুধ উৎপাদন ও খামারিদের আয় বাড়ছে বলে দাবি সরকারের।

গবাদি পশুপালনে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল গুজরাত সরকারের উদ্যোগ। বিশেষ প্রজনন প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে এখন ৯০ শতাংশেরও বেশি ক্ষেত্রে জন্ম নিচ্ছে মেয়ে বাছুর, যা খামারিদের খরচ কমিয়ে আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।

রাজ্যের প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই বিশেষ প্রক্রিয়ায় ৩.৪১ লক্ষ ডোজ ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে ৬৩ হাজারের বেশি গর্ভধারণ নিশ্চিত হয়েছে। ইতিমধ্যেই জন্ম নিয়েছে ৩৭ হাজারের বেশি বাছুর, যার মধ্যে প্রায় ৩৪ হাজারই মেয়ে। ফলে মোট জন্মের প্রায় ৯১ শতাংশই মেয়ে বাছুর।

Advertisement

এই প্রযুক্তির মূল বিষয় হল, এমনভাবে প্রজনন করা যাতে নির্দিষ্ট লিঙ্গের বাছুর জন্মানোর সম্ভাবনা বাড়ে। সাধারণভাবে ছেলে ও মেয়ে বাছুর জন্মানোর সম্ভাবনা প্রায় সমান থাকে, কিন্তু এই পদ্ধতিতে সেই সমীকরণ বদলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

Advertisement

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, পাটন জেলায় গড়ে তোলা বিশেষ কেন্দ্র থেকেই এই প্রযুক্তির প্রয়োগ শুরু হয়। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

খামারিদের মতে, এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হল খরচ কমে যাওয়া। ছেলে বাছুর লালনপালনে খরচ হলেও দুধ উৎপাদনে তাদের ভূমিকা থাকে না। ফলে মেয়ে বাছুর বেশি জন্মালে তা সরাসরি দুধ উৎপাদন বাড়ায় এবং আয় বৃদ্ধি করে।

একজন পশুপালক জানিয়েছেন, এই পদ্ধতি ব্যবহার করার ফলে তাঁর খামারে দুধ উৎপাদন বেড়েছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই লাভ বাড়ছে। মাত্র দু’বছরের মধ্যেই মেয়ে বাছুর দুধ দিতে শুরু করায় অর্থনৈতিকভাবে অনেকটাই সুবিধা হচ্ছে।

সরকার খামারিদের উৎসাহিত করতে এই পরিষেবার খরচও অনেকটাই কমিয়েছে। একটি ডোজ যেখানে তৈরি করতে বেশি খরচ হয়, সেখানে খামারিদের জন্য নামমাত্র দামে তা দেওয়া হচ্ছে। ফলে আরও বেশি মানুষ এই প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছেন।

দুধ উৎপাদনকারী সংস্থাগুলিও এই উদ্যোগে অংশ নিয়েছে। তারা স্বল্প মূল্যে এই পরিষেবা দিয়ে খামারিদের পাশে দাঁড়াচ্ছে। এর ফলে রাজ্যে গবাদি পশুর মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদনও বাড়ছে।

ভবিষ্যতে এই চাহিদা আরও বাড়বে বলে মনে করছে সরকার। তাই আগামী কয়েক বছরে আরও বেশি পরিমাণে এই বিশেষ প্রজনন উপাদান তৈরি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

Advertisement