• facebook
  • twitter
Thursday, 30 April, 2026

৭৭ বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি ঘিরে চাঞ্চল্য, কড়া নজরে নির্বাচন কমিশন

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগারওয়াল আগেই জানিয়েছেন, ‘ভোটযন্ত্র সংক্রান্ত কোনও অভিযোগই উপেক্ষা করা হবে না।’

প্রতীকী চিত্র

দ্বিতীয় দফার ভোট শেষ। তারই মধ্যে রাজ্যের একাধিক বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মোট ৭৭টি বুথে পুনর্নির্বাচনের আবেদন জমা পড়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কোনও বুথে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।

কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অভিযোগগুলি মূলত দক্ষিণ ২৪ পরগনার চারটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে এসেছে। ফলতা কেন্দ্রে ৩২টি বুথ, ডায়মন্ড হারবারে ২৯টি, মগরাহাট পূর্বে ১৩টি এবং বজবজে ৩টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানানো হয়েছে। এই চারটি কেন্দ্র মিলিয়েই মোট ৭৭টি বুথে অভিযোগ জমা পড়েছে।

Advertisement

অভিযোগের তালিকায় রয়েছে বৈদ্যুতিন ভোটযন্ত্রে কারচুপি, যন্ত্রে টেপ বা আঠা লাগানো, বুথ দখল, বিরোধী পক্ষের এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং ভোটারদের প্রভাবিত করার মতো গুরুতর বিষয়। কমিশন জানিয়েছে, কোনও অভিযোগই হালকাভাবে নেওয়া হবে না। বরং প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট বুথে পুনর্নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে।

Advertisement

এই পুরো যাচাই প্রক্রিয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকে। তাঁকে সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। ইতিমধ্যেই তিনি ডায়মন্ড হারবারে পৌঁছে সরেজমিনে তদন্ত শুরু করেছেন।

জানা গিয়েছে, স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এই পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া শুরু হবে। ধাপে ধাপে তিনি অন্যান্য অভিযোগপ্রাপ্ত বুথগুলিও খতিয়ে দেখবেন। সাধারণত এই ধরনের যাচাই রিটার্নিং অফিসারদের মাধ্যমে হয়ে থাকে। তবে এবারে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিশেষ পর্যবেক্ষকের উপস্থিতিতে সরাসরি তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

কমিশন সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই কিছু অভিযোগ প্রাথমিকভাবে খতিয়ে দেখা হয়েছে। তবে তদন্ত চলায় অভিযোগের সংখ্যা বা প্রকৃতি বদলাতেও পারে। সব অভিযোগ খতিয়ে দেখে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেবেন সুব্রত গুপ্ত। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগারওয়াল আগেই জানিয়েছেন, ‘ভোটযন্ত্র সংক্রান্ত কোনও অভিযোগই উপেক্ষা করা হবে না।’ কমিশনের তরফেও জানানো হয়েছে, প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।

আগামী ৪ মে ভোট গণনা হওয়ার কথা। তার আগেই এই তদন্ত রিপোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, এই রিপোর্টের উপর নির্ভর করবে কোন কোন বুথে পুনর্নির্বাচন হবে। ফলে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের নজর এখন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

Advertisement