মহারাষ্ট্রের নাসিকে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস বা টিসিএস-এ যৌন হেনস্তা ও ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ ঘিরে এখন রাজ্য-রাজনীতি থেকে শুরু করে প্রশাসনিক স্তর সর্বত্র সরগরম। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিস এই ঘটনাকে ‘গভীর ও উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সাহায্য চাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দোষীদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না। তাঁর এই কড়া অবস্থানের পরই টিসিএস-এর কাণ্ডকারখানাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযোগ সামনে আসার পরই স্থানীয় পুলিশ বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করে তদন্ত শুরু করে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে এবার মামলাটি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা হাতে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে মহারাষ্ট্র সরকার। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীস জানান, বিষয়টি ‘অত্যন্ত গুরুতর ও উদ্বেগজনক’ এবং এর গভীরে পৌঁছে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য কেন্দ্রীয় সংস্থার সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ‘কেউই ছাড় পাবে না, দোষীদের কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’
Advertisement
টিসিএস-এর নাসিক কেন্দ্রের অন্তত ৯ জন মহিলা কর্মী তাঁদের উপর যৌন হেনস্তা, মানসিক চাপ এবং ধর্মীয় প্রভাব খাটিয়ে ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। মহারাষ্ট্রের এক মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা গিরিশ মহাজন দাবি করেন, কিছু কর্মী চাকরি ও উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে নির্দিষ্ট ধর্মীয় আচরণ মানতে চাপ সৃষ্টি করেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
Advertisement
অন্যদিকে, এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলায় দাবি করা হয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এটিকে অবৈধ ধর্মান্তরকরণ ও গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এদিকে, মামলার অন্যতম অভিযুক্ত এইচআর কর্মী নিদা খান বর্তমানে পলাতক। তিনি আদালতে অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন জানিয়েছেন। শারীরিক অসুস্থতা ও অন্তঃসত্ত্বা অবস্থার কথা উল্লেখ করে গ্রেপ্তারি থেকে রেহাই চাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আইনি ও রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনার প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে। নাসিকের এই ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছে। আগামী দিনে তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, তার উপরই নির্ভর করছে এই মামলার পরবর্তী গতিপথ।
Advertisement



