• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 5 July, 2026

ভোটের আগে পুলিশে বড় রদবদল

গোয়েন্দা শাখার দায়িত্বে থাকা সৌম্য রায়কে সরিয়ে সেখানে আনা হয়েছে দেবস্মিতা দাসকে, যিনি বিশেষ বাহিনীর ডিআইজি হিসেবে কাজ করছিলেন।

ভোটের আগে পুলিশে বড় রদবদল

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। কলকাতা পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশের একাধিক শীর্ষ পদে একযোগে রদবদল করা হয়েছে। তিন যুগ্ম কমিশনার-সহ বহু উচ্চপদস্থ আধিকারিককে সরিয়ে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অন্যদের হাতে। সব মিলিয়ে ৫০টিরও বেশি পদে এই পরিবর্তন ঘটেছে, যা ভোটের আগে প্রশাসনিক পরিমণ্ডলে বড় প্রভাব ফেলেছে।

কলকাতা পুলিশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বদল হয়েছে যুগ্ম কমিশনার স্তরে। অপরাধ দমন শাখার দায়িত্বে এতদিন অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন রূপেশ কুমার। তাঁর জায়গায় নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন সোমা দাস মিত্র, যিনি এতদিন অপরাধ তদন্ত শাখার ডিআইজি পদে ছিলেন। একইভাবে যুগ্ম কমিশনার (সদর) পদে মিরাজ খালিদের পরিবর্তে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সুদীপ সরকারকে। পাশাপাশি গোয়েন্দা শাখার দায়িত্বে থাকা সৌম্য রায়কে সরিয়ে সেখানে আনা হয়েছে দেবস্মিতা দাসকে, যিনি বিশেষ বাহিনীর ডিআইজি হিসেবে কাজ করছিলেন।

তবে শুধু কলকাতা নয়, রাজ্য পুলিশের ক্ষেত্রেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে বদল করা হয়েছে। মোট সাত জন ডিসি-কে একসঙ্গে বদল করে নতুন দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। ভাঙড়ে সৈকত ঘোষের জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন মণীশ জোশী। কলকাতা পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের দায়িত্বে থাকা দীপক সরকারের পরিবর্তে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ভিএসআর অনন্তনাগকে। পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব এবং উত্তর বিভাগেও নতুন আধিকারিকদের বসানো হয়েছে। একইভাবে চন্দননগর ও শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটেও এই রদবদলের প্রভাব পড়েছে। চন্দননগরে সদর বিভাগের দায়িত্ব পেয়েছেন ইন্দ্রজিৎ সরকার, আর শিলিগুড়ির পূর্ব বিভাগে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রানা মুখোপাধ্যায়কে।

অন্যদিকে, বেলডাঙার সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে সেখানে মহকুমা পুলিশ আধিকারিক পদেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। উত্তম গড়াইয়ের জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আনন্দজিৎ হোড়কে। ওই ঘটনার তদন্ত বর্তমানে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা করছে, যার জেরে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। এ ছাড়াও সুন্দরবন পুলিশ জেলার সদর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চন্দন ঘোষকে। রাজ্যের বিভিন্ন থানার আইসি, ওসি এবং অতিরিক্ত ওসি পদেও একাধিক পরিবর্তন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই কমিশন ধারাবাহিকভাবে এই ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। ইতিমধ্যে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ্য পুলিশের শীর্ষ পদ এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে বদল আনা হয়েছে। একাধিক জেলার জেলাশাসককেও সরিয়ে নতুন আধিকারিক নিয়োগ করা হয়েছে।

কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, যাঁদের সরানো হয়েছে, তাঁদের আপাতত রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে নিযুক্ত করা যাবে না। ফলে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, ভোটের আগে এই ব্যাপক রদবদল রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু করার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে, যদিও তা নিয়ে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।