তালসারিতে শুটিং চলাকালীন মৃত্যু হয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে আর্টিস্ট ফোরামের তরফে এফআইআর দায়ের করা হয়। শনিবার দুপুরে রিজেন্ট পার্ক থানায় একটি ‘জ়িরো’ এফআইআর দায়ের করা হয়। অভিনেতা রাহুল ওরফে অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিকমৃত্যুর ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬১(২), ১০৬(১) এবং ২৪০ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
দায়ের হওয়া এফআইআরে ‘ম্যাজিক মোমেন্টস্ মোশন পিকচার প্রাইভেট লিমিটেড’-এর কর্ণধার পরিচালক শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় ও লীনা গঙ্গোপাধ্যায়-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরিকল্পিতভাবে অবহেলাজনিত ও বিপজ্জনক পদ্ধতিতে শুটিং পরিচালনা করা হয়েছিল, যা অভিনেতার জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয়।
Advertisement
এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার পর অভিযুক্তরা বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করেছেন, যাতে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করা যায়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থল যেহেতু ওড়িশার বালাসোর জেলার তালসারি মেরিন থানার আওতায় পড়ে, তাই এখানকার থানায় দায়ের হওয়া ‘জিরো’ এফআইআরটি যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে সংশ্লিষ্ট থানায় স্থানান্তর করা হচ্ছে।
Advertisement
শুক্রবার রাতে মিটিং ডাকে আর্টিস্ট ফোরাম। শুক্রবার সন্ধ্যার পর ফোরামের বৈঠকে এফআইআর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলেই খবর। সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, আবির চট্টোপাধ্যায়, লাবণী সরকার প্রমুখ। এই আর্টিস্ট ফোরামের সদস্য ছিলেন রাহুল নিজেও।
শনিবার দুপুরে রিজেন্ট পার্ক থানায় আর্টিস্ট ফোরামের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সৌরভ দাস, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, যিশু সেনগুপ্ত, চিরঞ্জিত চট্টোপাধ্যায়সহ আরও অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী। ফোরামের তরফে জানানো হয়েছে, ১ এপ্রিল প্রযোজনা সংস্থাকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু এর উত্তর সন্তোষজনক না হওয়ায় পুনরায় বৈঠক করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ফোরামের তরফে শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় বলেন, শুটিং চলাকালীন গাফিলতির কারণে এই মৃত্যু ঘটে। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘রাহুলের চলে যাওয়াটা স্বাভাবিক নয়। দুর্ঘটনার পর আইনি ও আলোচনার পর এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি। ফোরামের পক্ষ থেকে ১ এপ্রিল চিঠি পাঠানো হয়েছিল কিন্তু সঠিক উত্তর না পাওয়ায় এফআইআরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।‘
শনিবার বিকেল প্রায় চারটে নাগাদ অভিনেতা রাহুলের মৃত্যুর বিচারের দাবিতে শুরু হয় মিছিল। উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস, ইম্পার প্রেসিডেন্ট পিয়া সেনগুপ্ত পাশাপাশি জুন মালিয়া, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, অরিন্দম শীল, পাপিয়া অধিকারী সহ অনেকে।
টালিগঞ্জের টেকনিশিয়ান স্টুডিয়ো থেকে রাধা স্টুডিয়ো পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার জুড়ে শনিবার দেখা গেল মানুষের ঢল। শোক ও প্রতিবাদের মিশেলে সেই পথ যেন পরিণত হয়েছিল এক নীরব মিছিলে। এই মিছিলে নেতৃত্ব দেন পিয়া সেনগুপ্ত এবং স্বরূপ বিশ্বাস।
টলিপাড়ার শিল্পীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এই মৌনমিছিলে সামিল হন। অভিনেতা-অভিনেত্রীরা কালো ব্যাজ পরে অংশ নেন, যা ছিল প্রতিবাদ ও শোকের প্রতীক। মিছিলে উপস্থিত প্রত্যেকের চোখেমুখে ছিল একটাই বার্তা—ঘটনার সঠিক তদন্ত চাই এবং দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
আগেই আর্টিস্ট ফোরামের তরফে জানানো হয়েছিল, এই মিছিলের আহ্বায়ক নন তাঁরা। কিন্তু কোনও শিল্পী যদি ব্যক্তিগত ভাবে মিছিলে যেতে চান, তাতে সংগঠনের কোনও সমস্যা নেই। এই বক্তব্যেই স্থির থাকলেন ফোরামের সভাপতি শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়-সহ আরও অনেকে। তবে ব্যক্তিগত ভাবে রাস্তায় হাঁটতে দেখা গেল ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, রূপাঞ্জনা মিত্রকে। ছেলে উজান গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়।
গত রবিবার অর্থাৎ ২৯ মার্চ তালসারিতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় অভিনেতা রাহুলের। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, অতিরিক্ত বালি ও জল ফুসফুসে ঢুকে ফুসফুস ফুলে দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল। তবে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠছে। প্রযোজনা সংস্থা, সহকর্মী এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের মধ্যে বৈপরীত্য থাকায় রয়েছে ধোঁয়াশা।
Advertisement



