কোলন ক্যান্সার বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সাধারণ ক্যান্সারের মধ্যে একটি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এটি তৃতীয় সাধারণ ক্যান্সার হলেও সচেতনতার অভাব এখনও রয়েছে। কোলন ক্যান্সার সাধারণত দু’ভাবে হয়— বাম দিক ও ডান দিকে। এর মধ্যে ডানদিকের ক্যান্সারকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়।
এর প্রধান কারণ হিসেবে এক ক্যান্সার চিকিৎসক বলেছেন, ‘ক্ষুদ্রান্ত্রে খাবার থেকে মল যখন তৈরি হয়, তখন সেটি তরল আকারে থাকে। তারপর কোলনের রাস্তা দিয়ে সেটি নিচে নামে, ধীরে ধীরে তরল অংশটি শোষিত হতে থাকে। তারপর যে অংশটি ঘনীভূত হয়ে শক্ত হয়ে পড়ে থাকে, সেটিই মল হিসেবে আমাদের দেহের বাইরে বেরোয়।’ ডানদিকের কোলন ক্যান্সার অনেক সময় নীরবে শরীরে বৃদ্ধি পায়। শুরুতে তেমন কোনও স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না, ফলে রোগ ধরা পড়ে দেরিতে। কোলনের ডান দিকে মল দীর্ঘ সময় তরল অবস্থায় থাকে এবং জায়গাও তুলনামূলক বেশি চওড়া হওয়ায় টিউমার থাকলেও সহজে বাধা তৈরি হয় না। তাই ব্যথা বা ব্লকেজের মতো লক্ষণ কম দেখা যায়। অন্যদিকে বাম দিকে মল দ্রুত শক্ত হয়ে যাওয়ায় সামান্য সমস্যাতেও দ্রুত লক্ষণ ধরা পড়ে।
Advertisement
কিছু এমন লক্ষণ রয়েছে যেগুলি দেখে সতর্ক হতে হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। যেমন -রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া। কোলনের ডানদিকে টিউমার থাকলে ভিতরে ধীরে ধীরে রক্তক্ষরণ হতে পারে, যা বাইরে থেকে বোঝা যায় না। ফলে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। দীর্ঘদিন পেটের অস্বস্তি যেমন- পেটফাঁপা, হালকা ব্যথা বা গ্যাসের মতো সমস্যা যদি দীর্ঘদিন থাকে, তা অবহেলা করা ঠিক নয়। আবার হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া অর্থাৎ ডায়েট বা ব্যায়াম ছাড়াই দ্রুত ওজন কমাও গুরুতর সংকেত হতে পারে। এছাড়া মলত্যাগে পরিবর্তন যেমন- ডায়েরিয়া, অনিয়মিত মলত্যাগ বা পেট পুরো পরিষ্কার না হওয়ার অনুভূতি দীর্ঘদিন থাকলে সতর্ক হওয়া দরকার। এর সঙ্গে যদি অস্বাভাবিক ক্লান্তিবোধ হয় যেমন সব সময় দুর্বল লাগা বা শক্তি কমে যাওয়া রক্তাল্পতার লক্ষণ হতে পারে, যা ক্যান্সারের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
Advertisement
সাধারণত, ডানদিকের কোলন ক্যান্সার কম দেখা গেলেও এটি বেশি বিপজ্জনক। তার কারণ এটি চুপিসারে বাড়ে এবং দেরিতে ধরা পড়ে। তাই দীর্ঘদিন ধরে ছোটখাটো উপসর্গ থাকলেও তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
Advertisement



