• facebook
  • twitter
Monday, 30 March, 2026

পেটের মেদই সামগ্রিক স্থূলতার চেয়েও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, সতর্ক করলেন মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং

পেটের মেদই সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি— এমনই সতর্কবার্তা দিলেন জিতেন্দ্র সিং। ভারতীয়দের ক্ষেত্রে বাড়ছে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের আশঙ্কা।

ভারতে স্বাস্থ্যঝুঁকির ক্ষেত্রে নতুন করে উদ্বেগ বাড়াল পেটের মেদ বা উদরস্থ স্থূলতা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ডক্টর জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, সামগ্রিক স্থূলতার তুলনায় পেটের মেদ অনেক বেশি বিপজ্জনক, বিশেষ করে ভারতীয়দের ক্ষেত্রে। কারণ, অনেক সময় বাহ্যিক ভাবে রোগা দেখালেও শরীরের ভিতরে ক্ষতিকর চর্বি জমে থাকতে পারে।

একটি হৃদরোগ বিষয়ক গ্রন্থ প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘উদরস্থ স্থূলতা নিজেই একটি বড় ঝুঁকির কারণ। এটি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ফ্যাটি লিভার এবং রক্তের চর্বির ভারসাম্যহীনতার মতো একাধিক সমস্যার জন্ম দিতে পারে।’ তাঁর কথায়, শরীরের এই ‘অদৃশ্য’ মেদই অনেক সময় বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

Advertisement

ভারতীয়দের শরীরের গঠনের দিকে ইঙ্গিত করে জিতেন্দ্র সিং বলেন, আমাদের দেশে অনেকেই দেখতে রোগা হলেও পেটের চারপাশে চর্বি জমার প্রবণতা বেশি। ফলে বাইরের চেহারা দেখে স্বাস্থ্য বিচার করলে ভুল হতে পারে। এই কারণেই পেটের মেদকে বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

Advertisement

তিনি আরও জানান, বর্তমানে পুরুষ ও মহিলা উভয়ের মধ্যেই স্থূলতার হার বাড়ছে। কিন্তু তার থেকেও বেশি উদ্বেগজনক হল উদরস্থ স্থূলতার বাড়বাড়ন্ত, যা সরাসরি হৃদরোগ এবং বিপাকজনিত সমস্যার সঙ্গে যুক্ত। তাই দ্রুত শনাক্তকরণ এবং নির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতির উপর জোর দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

জীবনযাত্রার পরিবর্তনকেও এই সমস্যার অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেন মন্ত্রী। তাঁর মতে, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং অনিয়মিত জীবনযাত্রা— এই সবই ডায়াবেটিস এবং অল্প বয়সে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই প্রবণতা বাড়ছে বলে তিনি সতর্ক করেন।

একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন অতি মাত্রায় বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন শরীরচর্চা নিয়েও। যথাযথ প্রস্তুতি বা বিশ্রাম ছাড়া অতিরিক্ত পরিশ্রম করলে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জিতেন্দ্র সিংয়ের মতে, সুস্থ থাকতে হলে প্রয়োজন সুষম জীবনযাপন, পর্যাপ্ত ঘুম এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যচর্চা। তিনি মনে করেন, সচেতনতা বাড়ানোই এই সমস্যার মোকাবিলার প্রথম ধাপ।

এই অনুষ্ঠানে প্রকাশিত গ্রন্থে দেশ-বিদেশের তিন শতাধিক বিশেষজ্ঞের মতামত তুলে ধরা হয়েছে। স্থূলতা ও রক্তের চর্বিজনিত সমস্যার আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি, নতুন প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়েও সেখানে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।

বর্তমানে ভারতে স্থূলতা এবং সংশ্লিষ্ট রোগের বাড়বাড়ন্তের প্রেক্ষিতে এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি নিয়ে আরও সচেতনতা তৈরি হওয়া প্রয়োজন বলেও মত তাঁদের।

Advertisement