• facebook
  • twitter
Thursday, 26 March, 2026

শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

আগামীকাল, ২৭ মার্চ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জরুরি বৈঠক করবেন  মোদী

প্রায় একমাস ধরে পশ্চিম এশিয়ায় চলছে যুদ্ধ। গোটা বিশ্বেই এই যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধের আঁচ থেকে যায়নি ভারতও। ইরান–ইজরায়েল যুদ্ধ ক্রমশ পশ্চিম এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশে এখনও পেট্রোল, ডিজেল এবং এলপিজি গ্যাসের সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জরুরি পদক্ষেপ নিতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার অর্থাৎ ২৭ মার্চ সন্ধ্যা ৬টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন। এই বৈঠকে প্রতিটি রাজ্যের তেল ও গ্যাসের মজুত পরিস্থিতি বিশদভাবে পর্যালোচনা করা হবে। কেন্দ্রের লক্ষ্য, সম্ভাব্য সংকটের আগেই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া, যাতে সাধারণ মানুষকে কোনও রকমের সমস্যায় পড়তে না হয়। মূলত জরুরি পরিস্থিতিতে প্রস্তুতি কতটা, সাপ্লাই চেন, শক্তি সুরক্ষা ও বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে খবর।

Advertisement

সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী মোদী মূলত রাজ্যগুলির মধ্যে সহযোগিতা ও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করবেন। করোনাকালে যেমন সমস্ত রাজ্য একসঙ্গে মিলিতভাবে কাজ করেছিল,  এবার সেই কথা মাথায় রেখে কাজ করার পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি সংঘাত আবহে দেশের স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে ও  আকস্মিক পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

Advertisement

জানানো হয়েছে, যে রাজ্যগুলিতে ভোট রয়েছে, সেই রাজ্যগুলি বৈঠকে অংশ নেবে না। বাংলা-সহ ৫ রাজ্যে সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। আসাম, তামিলনাড়ু, কেরল ও পুদুচেরিতেও আগামী এপ্রিলে ভোট। এ সব রাজ্যে এই মুহূর্তে নির্বাচনের জন্য আদর্শ আচরণবিধি জারি রয়েছে। ফলে ওই রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীদের পরিবর্তে মুখ্যসচিবরা বৈঠকে যোগ দেবেন বলে জানা গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মুখ্যসচিব অংশ নেবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

অন্যদিকে, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বৈঠক বয়কট করতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে  জল্পনা তৈরি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস বরাবরই এই বিষয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি বিবৃতি দাবি করে আসছে। তাদের মত, এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পরিবর্তে সংসদে স্বচ্ছ আলোচনা হওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, সপ্তাহের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছিলেন যে, আপাতত দেশে জ্বালানির বড় ধরনের সংকট দেখা দেয়নি। তবুও সতর্কতা হিসেবে ইথানল উৎপাদন বাড়ানোর উপর জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। তবে বাস্তবে এলপিজি সরবরাহে অনিয়ম এবং বুকিংয়ে বিলম্ব সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার।

Advertisement