• facebook
  • twitter
Monday, 23 March, 2026

সঙ্কল্পপত্র প্রকাশ ঘিরে জোর জল্পনা বাংলার ভোটে

কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে ২৭ বা ২৮ মার্চ এই ইস্তেহার প্রকাশের সম্ভাবনা  রয়েছে

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে জনমত নিজেদের দিকে টানতে মরিয়া বিজেপি।সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহেই প্রকাশিত হতে পারে তাদের নির্বাচনী ইস্তেহার বা সঙ্কল্পপত্র । কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে ২৭ বা ২৮ মার্চ এই ইস্তেহার প্রকাশের সম্ভাবনা  রয়েছে। এ জন্য রাজ্যে আসতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।

উল্লেখ্য, এর আগেই ২০ মার্চ নিজেদের ইস্তেহার প্রকাশ করেছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে প্রকাশিত ‘দিদির ১০ প্রতিজ্ঞা’-য় উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এই ইস্তেহার চাপ বাড়িয়েছে গেরুয়া শিবিরের ওপর।

Advertisement

সূত্রের দাবি, বাংলায় ভোট জিততে এবার অনেকটাই মমতার পথেই হাঁটতে চাইছে বিজেপি।তৃণমূলের জনপ্রিয় প্রকল্পগুলির অনুকরণে নিজেদের পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। যেমন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের আদলে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর প্রতিশ্রুতি থাকতে পারে বিজেপির ইস্তেহারে, যেখানে মহিলাদের মাসিক ৩০০০ টাকা ভাতা দেওয়ার কথা বলা হতে পারে। একইভাবে যুবকদের জন্য রাজ্যের ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের অনুকরণে ‘যুবশক্তি’ নামে মাসিক ভাতার পরিকল্পনাও থাকতে পারে।

Advertisement

এছাড়াও পরিকাঠামো উন্নয়নে একাধিক প্রতিশ্রুতি দিতে পারে বিজেপি। উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত গতিশীল হাইওয়ে, বেহালা থেকে বালুরঘাট পর্যন্ত বিমান পরিষেবা চালু করা এবং সমুদ্র বন্দর নির্মাণের মত পরিকল্পনার উল্লেখ থাকতে পারে ইস্তেহারে। বিজেপি জানিয়েছে, গত কয়েক মাসে রাজ্যজুড়ে জনসাধারণ ও বিভিন্ন পেশার মানুষদের কাছ থেকে পরামর্শ সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই ভিত্তিতেই চূড়ান্ত ইস্তাহার তৈরি হচ্ছে।

অর্থনীতি নিয়েও সরব পদ্ম শিবির। তাদের দাবি, রাজ্যের ঋণের বোঝা ৮ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হবে।পরিযায়ী শ্রমিকদের  রাজ্যে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বিশেষ পরিকল্পনার কথাও থাকতে পারে। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, বাংলায় ভিনরাজ্যের প্রায় ২ কোটি শ্রমিক কাজ করছেন। ফলে কর্মসংস্থান নিয়ে দুই পক্ষের দাবিতে ফারাক স্পষ্ট।

সব মিলিয়ে, বিজেপির আসন্ন ইস্তেহার কোনো নতুন দিশা দেখাতে পারবে নাকি তৃণমূলের পথ অনুসরণেই এই দল সীমাবদ্ধ থাকবে, সেই দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।নির্বাচনের ফলই শেষ পর্যন্ত জানাবে, এই কৌশল কতখানি  সফল হল।

Advertisement