• facebook
  • twitter
Monday, 23 March, 2026

ফের আরজি করে দুর্ঘটনা, স্ট্রেচার না পেয়ে হাঁটতে গিয়ে মৃত্যু রোগীর!

চিকিৎসার জন্য এসে পর্যাপ্ত সুবিধা না পাওয়ার কারণে এক রোগীর মৃত্যুর দাবি করেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা

কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার বিভাগে ফের অব্যবস্থার অভিযোগ উঠল। চিকিৎসার জন্য এসে পর্যাপ্ত সুবিধা না পাওয়ার কারণে এক রোগীর মৃত্যুর দাবি করেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। মৃতের নাম বিশ্বজিৎ সামন্ত।পরিবারের অভিযোগ, শ্বাসকষ্ট ও নাক দিয়ে রক্তপাতের সমস্যায় ভুগছিলেন বিশ্বজিৎ। রাতে হাসপাতালে আনার পর প্রাথমিক চিকিৎসায় রক্তপাত বন্ধ হয় এবং তিনি কিছুটা সুস্থও বোধ করেন।

কিন্তু পরে শৌচালয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হলে তাঁকে কোনও স্ট্রেচার দেওয়া হয়নি। কাছাকাছি শৌচালয় না থাকায় হাসপাতালের কর্মীরা বাইরে বা দোতলায় নিয়ে যেতে বলেন। অসুস্থ অবস্থায় হেঁটে দোতলায় যাওয়ার পথেই তিনি অচৈতন্য হয়ে পড়েন এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে দাবি পরিবারের। বিশ্বজিতের স্ত্রী ইলা সামন্তের কথায়, অসুস্থ মানুষকে হাঁটিয়ে শৌচালয়ে পাঠানো অত্যন্ত অমানবিক। তাঁর ছেলে বিশাল সামন্তও অভিযোগ করেন, স্ট্রেচার বা কাছাকাছি শৌচালয়ের ব্যবস্থা থাকলে হয়তো এই ঘটনা এড়ানো যেত।

Advertisement

এই ঘটনার মাত্র দু’দিন আগেই একই হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার ভবনে আরেকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর তিন বছরের ছেলেকে চিকিৎসা করাতে এসে লিফটে আটকে পড়ে প্রাণ হারান। অভিযোগ, শৌচালয়ের অভাবে তাঁরা লিফটে উঠেছিলেন, কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে লিফট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে

Advertisement

গিয়ে বেসমেন্টে আটকে পড়ে। সেই সময় দুর্ঘটনায় অরূপের মৃত্যু হয়। এই ঘটনাতেও হাসপাতালের রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বর্তমান ঘটনাকে কেন্দ্র করে টালা থানা অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে দাবি করা হয়েছে, ট্রমা কেয়ারে শৌচালয় রয়েছে। তবে কেন রোগীকে বাইরে যেতে বলা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতালের সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় স্বীকার করেছেন যে ট্রমা কেয়ার ভবনে আরও শৌচালয়ের প্রয়োজন রয়েছে এবং এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। অন্যদিকে, রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য ও বিধায়ক অতীন ঘোষ জানিয়েছেন, যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং বিষয়টি নিয়ে শীঘ্রই বৈঠকে আলোচনা হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের অগস্ট মাসে এই একই হাসপাতালে রাতের ডিউটিতে থাকা এক মহিলা চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছিল। দীর্ঘ সময় পেরিয়েও হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে এখনও অসন্তোষ প্রকাশ করছেন অনেকেই।

Advertisement