বাংলায় জয় নিয়ে নিশ্চিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার কর্মীসভা থেকে সেই আত্মবিশ্বাস ফুটে উঠল মমতার কথায়। জয়ের পরই পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে দিল্লির পথে এগোনোর বার্তা দেন মমতা। এদিন কর্মীসভা থেকে বিজেপি নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। গ্যাসের দাম বাড়ায় নাজেহাল সাধারণ মানুষ, আর অন্যদিকে ভোটে বিজেপি টাকা বিলি করছে বলে নিশানা করেন মমতা।
দলীয় কর্মীদের মাথা ঠান্ডা রেখে চলার পরামর্শও এদিন দেন তৃণমূল নেত্রী। বাইরে থেকে লোক এনে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা হতে পারে বলেও এদিন অভিযোগ করেন তিনি। তৃণমূল শান্তিপূর্ণ ভোট চায় বলে জানান মমতা। মমতার সঙ্গে এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
Advertisement
এদিনের সভায় অভিষেক ভবানীপুরের নেতাকর্মীদের সামনে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে দেন। তিনি বলেন, প্রতিটি বুথে অন্তত পাঁচটি করে ভোট বাড়াতে হবে। ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কমপক্ষে ষাট হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী করার টার্গেট বেধে দেন অভিষেক। তিনি বলেন‘কলকাতার মধ্যে ফার্স্ট হতে হবে ভবানীপুরকে। ৬০ হাজারের বেশি ভোটে জিততে হবে।‘
Advertisement
ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ বলেন, শুধু একবার নয়, প্রয়োজনে একাধিকবার সাধারণ মানুষের বাড়িতে যেতে হবে। একই ব্যক্তির সঙ্গে বারবার কথা বলতে হবে এবং তাঁদের কাছে দলের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। ভোট না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক কর্মীকেই এই দায়িত্ব পালন করার নির্দেশ দেন।
বুথ সভাপতিদের উদ্দেশেও তিনি এদিন বিশেষ নির্দেশ দেন। কাউন্সিলরদের ফোনের অপেক্ষায় বসে না থেকে নিজেদের উদ্যোগেই কাজ করতে হবে। প্রতিদিন সাধারণ মানুষের বাড়িতে ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’-এর মতো করে পৌঁছে যেতে হবে। কখনও চায়ের আড্ডায়, কখনও বাজারে বা জনবহুল স্থানে বসে মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে হবে। মানুষের মতামত, সমস্যার কথা এবং নির্বাচনের বিষয়ে তাঁদের ভাবনা বুঝে সেই অনুযায়ী রিপোর্ট তৈরি করে দলের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
কীভাবে বিরোধীদের প্রচার সামলাতে হবে তা নিয়েও এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নেতা-কর্মীদের পরামর্শ দেন। অভিষেক বলেন, জনগণকে বোঝাতে হবে যে বিরোধী দল দুর্নীতিগ্রস্ত এবং তাদের প্রচারের কোনও ভিত্তি নেই। তিনি উদাহরণ স্বরূপ বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে এবং পরে মোদীর জীবনযাত্রার যে পরিবর্তন এসেছে। অন্যদিকে তিনি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরল জীবনযাত্রার চিত্র তুলে ধরার কথা বলেন।
বাংলার প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার বিষয়টি ভবানীপুরের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, রাজ্য ও কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রকল্পের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তা স্পষ্ট করে বোঝানোর নির্দেশ দেন তিনি।
বিশেষ করে মহিলাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজ্যের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা তুলে ধরতে হবে এবং বোঝাতে হবে যে অন্য কোনও রাজ্যে এ ধরনের উদ্যোগ নেই। কাউন্সিলরদের প্রতিদিনের কাজের রিপোর্ট তৈরি করার নির্দেশ দেন। আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোনও জায়গা নেই বলেও সাফ জানিয়ে দেন। প্রত্যেক কর্মীকে সক্রিয়ভাবে মাঠে নেমে মানুষের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানোর নির্দেশ সাংসদের। সভা শেষে কর্মীদের উদ্দীপ্ত করতে অভিষেক বলেন, ‘এই বাংলা মাথা নত করবে না।‘
Advertisement



