কেন্দ্রীয় সরকার অভ্যন্তরীণ বিমান ভাড়ার উপর আরোপিত ঊর্ধ্বসীমা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ২৩ মার্চ, সোমবার থেকে কার্যকর হতে চলেছে। অসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রকের জারি করা নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ইন্ডিগোর ব্যাপক ফ্লাইট বিপর্যয়ের পরিপ্রেক্ষিতে এই ভাড়ার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই সময় যাত্রীদের অসুবিধা এবং সীমিত আসনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু বিমান সংস্থা অস্বাভাবিক হারে ভাড়া বৃদ্ধি করছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মন্ত্রক ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫-এ সাময়িকভাবে ইকোনমি ক্লাসের ভাড়ার উপর একটি ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণ করে। নির্দিষ্ট দূরত্বের ভিত্তিতে এই সীমা ৭,৫০০ টাকা (৫০০ কিলোমিটারের কম) থেকে শুরু করে ১৮,০০০ টাকা (১৫০০ কিলোমিটারের বেশি) পর্যন্ত নির্ধারিত করা হয়। মূল উদ্দেশ্য ছিল যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষা করা এবং অস্বাভাবিক ভাড়া বৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণে আনা।
Advertisement
তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিমান চলাচলের পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রক। ফ্লাইট পরিচালনা, আসনসংখ্যা এবং সার্বিক পরিষেবা পুনরায় স্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতির সার্বিক পর্যালোচনা করে ভাড়ার ঊর্ধ্বসীমা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
Advertisement
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতজনিত কারণে বিমান সংস্থাগুলি এখনও কিছু পরিচালনগত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। তবুও দেশের অভ্যন্তরীণ বিমান পরিষেবায় স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় বাজারভিত্তিক ভাড়া নির্ধারণে ফের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।
তবে মন্ত্রক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বিমান সংস্থাগুলিকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। ভাড়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং তা যেন যুক্তিসঙ্গত ও বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। যাত্রীদের স্বার্থ যাতে কোনওভাবেই ক্ষুণ্ণ না হয়, সে বিষয়েও কড়া নজর রাখা হবে।
একই সঙ্গে সতর্ক করা হয়েছে, যদি কোনও সংস্থা অতিরিক্ত বা অযৌক্তিকভাবে ভাড়া বৃদ্ধি করে, বিশেষ করে উচ্চ চাহিদা বা জরুরি পরিস্থিতিতে, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত কঠোরভাবে দেখা হবে। মন্ত্রক জানিয়েছে, বিমান ভাড়ার গতিপ্রকৃতির উপর রিয়েল-টাইম নজরদারি অব্যাহত থাকবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
Advertisement



