দু’দফায় হচ্ছে এবারের বাংলার বিধানসভা নির্বাচন। প্রথম দফার ভোট হবে ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ভোট ২৯ এপ্রিল হওয়ার কথা। প্রথম দফায় ভোট হবে মালদহ-সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়। আর ভোটের আগে মালদহে নাকা তল্লাশি চলাকালীন একটি গাড়ি থেকে উদ্ধার হল আগ্নেয়াস্ত্র।
শনিবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটে মালদহ জেলার পুরাতন মালদহের ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের চেঁচু মোড় এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিয়মিত নাকা তল্লাশির সময় কংগ্রেস নেতা ও মানিকচকের প্রাক্তন বিধায়ক মোত্তাকিন আলমের গাড়িটি থামানো হয়। যদিও সেই সময় তিনি নিজে গাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না, চালক-সহ মোট ছ’জন ব্যক্তি গাড়িতে ছিলেন।
Advertisement
পুলিশ প্রথমে গাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং পরে তল্লাশি চালায়। তল্লাশির সময় গাড়ির ড্যাশবোর্ড থেকে একটি ৭ এমএম পিস্তল উদ্ধার করা হয়। আগ্নেয়াস্ত্রটি সম্পর্কে সন্তোষজনক কোনও তথ্য দিতে পারেননি গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা। এরপরই পুলিশ পিস্তলটি বাজেয়াপ্ত করে এবং ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে আটক করা হয়।
Advertisement
রবিবার পুলিশ জানায়, এই ঘটনায় মোট ছ’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের সকলেই ইংরেজবাজার এলাকার বাসিন্দা এবং তাঁরা প্রাক্তন বিধায়কের নিকট আত্মীয় বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের মালদহ জেলা আদালতে পেশ করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়ে গিয়েছে। ঘটনায় রীতিমতো অস্বস্তিতে স্থানীয় কংগ্রেস নেতৃত্ব। যদিও এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত প্রাক্তন বিধায়কের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। পুরাতন মালদহ পুরসভার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল নেতা বিভূতি ঘোষ বলেন, আগ্নেয়াস্ত্রটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত হলেও প্রাক্তন বিধায়ক গাড়িতে না থাকাকালীন তা কেন পাওয়া গেল। তাঁর মতে, এর পিছনে অসৎ উদ্দেশ্য থাকতে পারে এবং পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে সত্য সামনে আসবে।
অন্যদিকে কংগ্রেসের মালদহ জেলার কার্যনির্বাহী সদস্য মান্তু ঘোষ দাবি করেছেন, পিস্তলটি মোত্তাকিন আলমের লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র। ইদের ব্যস্ততায় ভুলবশত সেটি গাড়িতে থেকে গিয়েছিল এবং পরিবারের সদস্যরা সেটি নিয়ে বেরিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, এই ঘটনায় কোনও অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না এবং তৃণমূল অযথা রাজনৈতিক করার চেষ্টা করছে।
Advertisement



