• facebook
  • twitter
Thursday, 2 April, 2026

বুধবারের পর আজও ফের বিক্ষোভ মালদহে, সকালে থেকে শুরু হয় অবরোধ

ফের অবরুদ্ধ করা হয় ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক

বুধবারের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয় পুরাতন মালদহ ব্লকের মঙ্গলবাড়ি এলাকায়। ফের অবরুদ্ধ করা হয় ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক। বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং বাঁশের ব্যারিকেড তৈরি করে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় মোতায়েন রয়েছে পুলিশবাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা।

বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি—বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই বুধবার মালদহের একাধিক এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়, যার কেন্দ্রবিন্দু ছিল কালিয়াচক। সেদিন সকাল থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ক্রমশ তীব্র আকার নেয় এবং জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হয়। একই সঙ্গে কালিয়াচক ২ নম্বর বিডিও অফিসে কর্মরত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ঘেরাও করে রাখা হয় দীর্ঘ সময়।

Advertisement

সূত্র অনুযায়ী, বিকেল ৪টে থেকেই বিক্ষোভকারীরা ব্লক অফিস ঘিরে ফেলেন। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করে বেরোতে পারেননি সাতজন বিচারবিভাগীয় আধিকারিক। তাঁদের মধ্যে তিনজন মহিলা বিচারকও ছিলেন। প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা ধরে তাঁরা অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। গভীর রাতে বিশাল পুলিশবাহিনী গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। অভিযোগ, উদ্ধারকাজ চলাকালীন পুলিশি গাড়ি আটকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং হামলার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল।

Advertisement

বুধবার রাতেই পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, প্রশাসন তাঁদের আশ্বাস দিয়েছে যে চার দিনের মধ্যে বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই অবরোধ তুলে নেওয়া হয় এবং প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর রাত ২টো নাগাদ জাতীয় সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

তবে বৃহস্পতিবার সকালে আবার নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হওয়ায় উত্তেজনা ফের ছড়িয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে এবং গোয়েন্দা বিভাগকেও সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুজাপুর ও মোথাবাড়ির মতো সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

এদিকে, এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই বৈষ্ণবনগরে নির্বাচনী জনসভা রয়েছে  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ফলে প্রশাসনের উপর চাপ আরও বেড়েছে। যদিও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে, তবুও এলাকাজুড়ে এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে এবং পরিস্থিতি যে কোনও সময় আবার অস্থির হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Advertisement