প্রথমে নবগঠিত রাজ্য সরকারের ক্রীড়াদপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছিলেন নিশীথ প্রামাণিক। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে মন্ত্রিসভা ঘোষণা করেন, সেখানে ক্রীড়া দপ্তরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক ডা. ইন্দ্রনীল খাঁ। ক্রীড়ার পাশাপাশি যুব ও ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের স্বাধীন দায়িত্বও পেয়েছেন তিনি।
দায়িত্ব নিয়েই ময়দানকে রাজনীতিমুক্ত করার কথা বলেছেন ইন্দ্রনীল। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রাজনীতি হবে রাজনীতির ময়দানে আর খেলার মাঠে শুধু খেলাই হবে, রাজনীতি নয়। খেলাধুলার পরিবেশকে রাজনীতিমুক্ত, সিন্ডিকেটমুক্ত ও স্বজনপোষণমুক্ত করাই এই সরকারের লক্ষ্য, আমারও লক্ষ্য।‘
ক্রীড়া দপ্তরের দায়িত্ব পেয়ে খুশি ইন্দ্রনীল বলেন, ‘মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আমাকে ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ এবং ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের দায়িত্ব দিয়েছেন। সে জন্য আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ। আমার উপর আস্থা রাখার জন্য দলীয় নেতৃত্বকেও ধন্যবাদ জানাই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর স্বপ্ন বাস্তবায়নে যুব সমাজকে আরও বেশি উদ্বুদ্ধ করার দিকেই আমাদের বিশেষ নজর থাকবে।‘
আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মঞ্চে বাংলার ক্রীড়াবিদদের আরও বেশি করে তুলে ধরাই এখন রাজ্যের প্রধান লক্ষ্য। নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী বলেন, ‘রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে নিয়ে তাদের বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ, আধুনিক পরিকাঠামো এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেবে সরকার। বলেন, “আমাদের লক্ষ্য, এমন পরিবেশ তৈরি করা যেখানে বাংলার ছেলেমেয়েরা নিজেদের প্রতিভার প্রমাণ দিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশ ও রাজ্যের নাম উজ্জ্বল করতে পারবে। খেলো ইন্ডিয়া, ফিট ইন্ডিয়ার মতো প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সরকার সব সময় খেলোয়াড়দের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।‘
পূর্বতন সরকারের সমালোচনা করে ইন্দ্রনীল বলেন, ‘বাংলার অনেক খেলোয়াড় অন্য রাজ্যে গিয়ে নিজেদের কেরিয়ার গড়তে বাধ্য হচ্ছে। আমরা বলি ‘সব খেলার সেরা বাঙালির তুমি ফুটবল’। কিন্তু বাঙালি ফুটবলার সুযোগ পাচ্ছে কই? বিগত সরকারের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ বিভাগের বিভিন্ন অনিয়ম ও বিতর্ক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সেগুলি খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে আগামী দিনে যুব সমাজকে আরও এগিয়ে নিয়ে গিয়ে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যেই আমাদের ফোকাস থাকবে।‘




