উত্তরবঙ্গ জুড়ে গত কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টির মধ্যে হঠাৎই দেখা মিলল শীতের আমেজ। সান্দাকফুতে প্রবল তুষারপাতের জেরে রাস্তাঘাট প্রায় ছয় ইঞ্চি পুরু বরফে ঢেকে গিয়েছে। মার্চের শেষের দিকে এমন আবহাওয়া বদলকে অস্বাভাবিক বলেই মনে করছেন আবহবিদেরা। একদিকে সমতলে বৃষ্টি, অন্যদিকে পাহাড়ে তুষারপাত— প্রকৃতির এই বৈপরীত্যই এখন চোখে পড়ছে উত্তরবঙ্গে।
দার্জিলিং-সহ পাহাড়ি এলাকায় সাধারণত এই সময় পর্যটকদের ভিড় বাড়তে শুরু করে। কিন্তু পশ্চিমি ঝঞ্ঝার প্রভাবে আবহাওয়ার আচমকা পরিবর্তন হয়েছে। কোথাও ভারী বৃষ্টি, কোথাও শিলাবৃষ্টি, আবার কোথাও ঝোড়ো হাওয়া বইছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৮ মার্চ পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের বেশির ভাগ জেলাতেই এই ঝড়-বৃষ্টি চলবে এবং উঁচু পার্বত্য এলাকায় তুষারপাতও অব্যাহত থাকবে।
Advertisement
দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহে ২৪ মার্চ পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা। তার পর আকাশ পরিষ্কার হবে। ২৪ মার্চ পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের চার জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের বেশির ভাগ জেলায় ২৪ মার্চ পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
Advertisement
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, তুষারপাতের জেরে সান্দাকফু-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় শতাধিক পর্যটক আটকে পড়েছেন। বরফ সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কারের কাজ চলছে, তবে এলাকা জাতীয় উদ্যান হওয়ায় প্রযুক্তি ব্যবহারে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং নিরাপদে পর্যটকদের নীচে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজ়ম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক সম্রাট সান্ন্যাল বলেন, ‘সঠিক সংখ্যাটা না পাওয়া গেলেও এখনও পর্যন্ত প্রায় শতাধিক পর্যটক সান্দাকফুতে আটকে রয়েছেন। ইতিমধ্যেই জিটিএ থেকে কাজে নামানো হয়েছে কর্মীদের। সুরক্ষিত ভাবে পর্যটকদের যাতে নীচে নামিয়ে আনা যায়, সেই চেষ্টাই চালানো হচ্ছে।’
অন্যদিকে, সিকিমের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলেও তুষারপাতের জেরে একাধিক রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। লাচেন থেকে থাঙ্গু ও গুরুদোংমার এবং ইউমথাং থেকে জিরো পয়েন্টের রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। যদিও কিছু এলাকায় হালকা যানবাহন চলাচল করছে, বড় গাড়ির ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি রয়েছে।
সিকিম আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুরে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি চলবে। দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদহেও কয়েক দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রবিবারের পর থেকে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
Advertisement



