রবিবার বিকেল থেকেই রাজ্যজুড়ে কার্যকর হয়েছে নির্বাচন কমিশনের আদর্শ আচরণবিধি। আর সেই বিধি লাগুর প্রথম দিনেই বিজেপি বিধায়ক লক্ষণ ঘোড়ুইকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচন বিধি কার্যকর হওয়ার পরেও তিনি এলাকায় শ্রবণযন্ত্র, হুইলচেয়ার ও লাঠি বিতরণ করেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুর পশ্চিম বিধানসভার স্টেশন বাজার এলাকায় রবিবার বিকেলে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত থেকে দুঃস্থ ও প্রবীণ মানুষের হাতে শ্রবণযন্ত্র, হুইলচেয়ার ও লাঠি তুলে দেন বিজেপি বিধায়ক লক্ষণ ঘোড়ুই। এই ঘটনার খবর সামনে আসতেই বিরোধীদের পক্ষ থেকে নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হয়।
Advertisement
বিরোধীদের দাবি, নির্বাচন বিধি কার্যকর হওয়ার পর এই ধরনের সামগ্রী বিতরণ করা সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন আচরণবিধির পরিপন্থী। তাঁদের মতে, ভোটের আগে সাধারণ মানুষের কাছে এই ধরনের সহায়তা পৌঁছে দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। ফলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠেছে।
Advertisement
এই প্রসঙ্গে তীব্র কটাক্ষ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, নির্বাচন আচরণবিধি সকলের জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য। কেউ তা মানবেন কি মানবেন না, সেটি তাঁদের ব্যক্তিগত বিষয় হতে পারে। তবে বিজেপির নেতাদের ক্ষেত্রে হয়তো আলাদা নিয়ম থাকতে পারে। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির ওপর কোনও আইন কার্যকর হয় না, কারণ নির্বাচন কমিশনেও তাঁদের মনোনীত ব্যক্তি রয়েছেন।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক লক্ষণ ঘোড়ুই। তাঁর দাবি, নির্বাচন বিধি কার্যকর হওয়ার পর তা সম্পূর্ণভাবে বলবৎ হতে কিছুটা সময় লাগে। সেই কারণেই তিনি গরিব মানুষের হাতে প্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দিয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেস রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁকে দোষারোপ করার চেষ্টা করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ কতটা সত্য, তা নিয়ে এখন নজর রয়েছে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের দিকে।
Advertisement



