কী হল ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের? আইএসএল ফুটবলে পরপর তিনটি ম্যাচে পয়েন্ট খোয়াতে হল লাল-হলুদ ব্রিগেডকে? শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গণে হতশ্রী ফুটবল উপহার দিল ইস্টবেঙ্গল। তা না হলে এবারের প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে দুর্বল টিম বলতে কেরালা ব্লাস্টার্স। তাদের সঙ্গে ১-১ গোলে খেলা শেষ করতে হল ইস্টবেঙ্গলকে। ভাবতেও অবাক লাগে কেরল ব্লাস্টার্স চলতি মরশুমে একটা পয়েন্ট ছিনিয়ে নিল ইস্টবেঙ্গলের কাছ থেকে। এটাই তাদের প্রথম পয়েন্ট এল লিগ টেবলে। আর ইস্টবেঙ্গল পাঁচ ম্যাচে আট পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে জায়গা পেয়েছে লিগ টেবলে। কয়েক দিন ধরেই কোচ অস্কার ব্রুজোর সঙ্গে একটা ব্যবধান তৈরি হয়েছে কর্মকর্তাদের সঙ্গে। ক্লাবের প্রথম সারির কর্মকর্তা দেবব্রত সরকার ওই ব্যবধানে প্রলেপ দিয়ে বলতে শুরু করেছেন, আমরা কোচ অস্কার ব্রুজোর পাশে আছি। আসলে তা নয়। কোচের প্রতি তাঁদের যে বিরক্তি, তা প্রকাশ পেয়েছে শরীরী ভাষায়। কোচও এই অবস্থাকে সামাল দেওয়ার জন্য নীরবতা পালন করেছেন।
এদিকে খেলার প্রথম পর্বটা ইস্টবেঙ্গল বেশ চাপ সৃষ্টি করেছিল প্রতিপক্ষ কেরল ব্লাস্টার্সের রক্ষণভাগে। বেশ কিছুটা সময় লাল-হলুদ ব্রিগেড আক্রমণ গড়ে তুলে বেশ কয়েকটি সহজ সুযোগ তারা হাতছাড়া করে। খেলার ১৮ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের অধিনায়ক সউল ক্রেসপোর কাছে গোল করার একটা সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল। কিন্তু তাঁর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অন্যদিকে কেরল ব্লাস্টার্স পাল্টা আক্রমণ শানাতে চেষ্টা না করে ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণকে মাঝমাঠে রুখে দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল। খেলার ৪৪ মিনিটের মাথায় কেরল সমতা ফিরিয়ে আনতে পারত। অবশ্য খেলার ১০ মিনিটে ইস্টবেঙ্গল এগিয়ে যায়। ইস্টবেঙ্গলের এডমুন্ড লালরিনডিকার মাইনাস থেকে বক্সের মধ্যে বল পেয়ে যাওয়ার সময় ইউসেফকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। ইউসেফ সেই বাধা টপকে গোল করে লাল-হলুদ শিবিরকে এগিয়ে দেন। খেলার প্রথমার্ধে আর কোনও গোল হয়নি।
Advertisement
দ্বিতীয় পর্বে ইস্টবেঙ্গলের তুলনায় অনেক বেশি সুযোগ তৈরি করে কেরল দল। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণভাগে এসে তারা থমকে যায়। ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলাররা দ্বিতীয় পর্বে কেমন যেন নিস্তেজ হয়ে পড়েছিলেন। এক গোলে এগিয়ে থাকার পরে ইস্টবেঙ্গল কেন আক্রমণের গতি বাড়াল না, তার কোনও হদিশ খুঁজে পাওয়া যায়নি। কেরলের ফুটবলাররা যেভাবে ইস্টবেঙ্গলের উপরে চাপ সৃষ্টি করে গোল করার চেষ্টা করেছিল, তা অবশ্যই মনে রাখার মতো। হয়তো ইস্টবেঙ্গল ভেবেছিল দ্বিতীয় পর্বের সংযুক্ত সময়ের আগে প্রতিপক্ষ দল আর কিছু করতে পারবে না। কিন্তু তারা সুযোগ হাতছাড়া করেনি। কেরলের আজসল কর্নার থেকে পাওয়া বলটি ফাঁকা গোলে জড়িয়ে দিয়ে খেলায় সমতা ফিরিয়ে আনেন। সেই সময় লাল-হলুদের চার-পাঁচজন ফুটবলার চুপচাপ দাঁড়িয়েছিলেন। কেউই আজসলকে খেয়ালই করেননি। শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে ইস্টবেঙ্গল আবার পয়েন্ট নষ্টের দৌড়েই থাকল।
Advertisement
Advertisement



