• facebook
  • twitter
Tuesday, 14 April, 2026

ইরানের ‘সুইসাইড বোট’ হামলা মার্কিন জাহাজে, মৃত ভারতীয় নাবিক

সংস্থা সতর্ক করেছে, ঝুঁকিপূর্ণ সামুদ্রিক এলাকায় ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ফের মার্কিন তেলবাহী জাহাজে হামলা চালালো ইরান। ফলে আবার পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেল। মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী ‘সেফসি বিষ্ণু’ নামে জাহাজটি ইরাকের আঞ্চলিক জলসীমায় ছিল। সেই সময় জাহাজটি আক্রমণের মুখে পড়ে। এই হামলায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। তাঁর নাম এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। জানা গিয়েছে, জাহাজে তখন অন্তত ২৮ জন ক্রু ছিলেন। বাকি ২৭ জনকে উদ্ধার করে বসরা শহরে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলা চালানো হয়েছে ইরানের ‘সুইসাইড বোট’ বা জলের নিচে থাকা ড্রোনের মাধ্যমে। তবে কী ভাবে হামলা হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক ভাবে এক সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, সুইসাইড বোটের সাহায্যে ওই হামলা চালিয়েছে তেহরান।পাশাপাশি একই এলাকায় থাকা আরেকটি তেলবাহী জাহাজও হামলার শিকার হয়েছে। হামলার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায় বিস্ফোরণের পর আগুন জ্বলছে ট্যাঙ্কারগুলিতে।
ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, নিহত ভারতীয় নাবিক ছাড়াও জাহাজে আরও ১৫ জন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন, যাঁদের সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। ‘সেফসি’ সংস্থার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানাচ্ছে, নিহতের ঘটনায় তারা গভীরভাবে মর্মাহত এবং ভারত সরকারকে নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছে এই সংস্থা। সংস্থা সতর্ক করেছে, ঝুঁকিপূর্ণ সামুদ্রিক এলাকায় ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

Advertisement

ইরাকের বন্দরগুলির ডিরেক্টর জেনারেল ফারহাদ আল-ফারতৌসি জানান, হামলায় অন্তত এক জন নিহত হয়েছেন। তবে হামলা কী ভাবে হয়েছে তা স্পষ্ট নয় বলে জানান তিনি। সমুদ্রের তলা দিয়ে হামলার কোনও ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁর অনুমান।
এই ঘটনার পর ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ শিয়া আল-সুদানি আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে সতর্ক করে বলেছেন যে, ইরাকের আকাশসীমা, জলসীমা বা ভূখণ্ড যেন প্রতিবেশী দেশগুলির বিরুদ্ধে সামরিক হামলার জন্য ব্যবহার না করা হয়।

Advertisement

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, যুদ্ধ থামানোর একমাত্র উপায় হল ইরানের ন্যায্য দাবি স্বীকার করা এবং ভবিষ্যতে আগ্রাসন ঠেকাতে আন্তর্জাতিক স্তরে নিশ্চয়তা দেওয়া। তিনি রাশিয়া এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘জায়নিস্ট শাসন’ ও আমেরিকার যুদ্ধোন্মাদ নীতির জেরেই এই সংঘাত
শুরু হয়েছে।

Advertisement