লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে কংগ্রেস-সহ কয়েকটি বিরোধী দলের আনা অনাস্থা প্রস্তাব সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিল বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। ওম বিড়লার অপসারণের প্রস্তাবকে সমর্থন করার কথা আগেই জানিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সূত্রের খবর, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে বিরোধী জোটের আনা অনাস্থা প্রস্তাবে সই করতে চলেছে তৃণমূল। সোমবার ৯ মার্চ থেকে সংসদের বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হচ্ছে। দ্বিতীয় পর্বে স্পিকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটির সম্ভাবনা রয়েছে। অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার জন্য সোমবার বিষয়টি তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
কংগ্রেস ছাড়াও ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টি, শিবসেনা (ইউবিটি), এনসিপি (শরদ গোষ্ঠী) -সহ বেশ কয়েকটি বিরোধী দল লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে ‘পক্ষপাতদুষ্ট আচরণে’র অভিযোগে অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিসে সই করেছিল। ১০ ফেব্রুয়ারি বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্বে লোকসভার সচিবালয়ে এই নোটিস জমা দিয়েছিলেন কংগ্রেসের মুখ্য সচেতক কে সুরেশ। তবে সেই নোটিসে তৃণমূলের কোনও সাংসদের সই ছিল না।
Advertisement
ওই দিন লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, কংগ্রেসের উদ্যোগে স্পিকারের বিরুদ্ধে যে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হচ্ছে তাতে তৃণমূলের সাংসদদের সই করতে কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু তৃণমূল সুযোগ দেওয়ায় বিশ্বাসী। তাই কেউ ভুল করলে, তাকে একটা সুযোগ দিতে হয়। না হলে বিজেপি আর তৃণমূলের মধ্যে তফাত কী! উপরাষ্ট্রপতি কথা শোনেননি বলেই এক লহমায় তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তৃণমূল কখনই বিজেপির মতো নয়।
Advertisement
বিরোধীদের অভিযোগ, লোকসভার বাজেট অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদজ্ঞাপন পর্বে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী দলের একাধিক সাংসদকে বক্তব্য পেশ করতে দেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, ৮ বিরোধী সাংসদকে একতরফাভাবে সাসপেন্ড করেন স্পিকার ওম বিড়লা।
লোকসভায় কংগ্রেসের সহকারী দলনেতা গৌরর গগৈ সাফ জানিয়েছেন, স্পিকারের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের প্রতিবাদেই তাঁরা বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন। বিরোধী শিবির অনাস্থা নোটিস জমা দেওয়ার পরেই বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য লোকসভার সেক্রেটারি জেনারেল উৎপলকুমার সিংকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বিড়লা। এমনকী, বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্বের বাকি দিনগুলিতে আর সভা পরিচালনা করেননি তিনি।
এর আগেও লোকসভার স্পিকারকে অপসারণের চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু কোনওবারই তা সফল হয়নি। এবারও অঙ্কের হিসাবে স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পাশ হওয়ার কোনও সম্ভাবনাই নেই। সংবিধানের ৯৪ (সি) অনুচ্ছেদের আওতায় স্পিকারকে তাঁর পদ থেকে সরানো যায়। তবে এর জন্য লোকসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সাংসদকে স্পিকারের বিরুদ্ধে ভোট দিতে হবে। অনাস্থা আনতে হলে তার আগে ওই প্রস্তাবের জন্য একটি লিখিত নোটিস জমা দিতে হয়। সংসদীয় নিয়ম মেনে প্রস্তাবের অন্তত ১৪ দিন আগে ওই নোটিস জমা দিতে হয়।
এবার এখনও পর্যন্ত বিড়লার বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবে ১২০ জন সাংসদ সই করেছেন। নোটিসের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর সেটি গৃহীত হলে আলোচনার জন্য সময় নির্ধারিত হয়। প্রস্তাবটি গৃহীত হওয়ার পর থেকে বিবেচনাধীন থাকা পর্যন্ত সময়ে লোকসভার কাজ সাধারণত স্পিকার পরিচালনা করেন না। পরিবর্তে ডেপুটি স্পিকার অধিবেশন পরিচালনা করেন। তবে কোনও কারণে ডেপুটি স্পিকারও অনুপস্থিত থাকলে রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত কোনও সাংসদ লোকসভা পরিচালনা করেন। ইতিমধ্যেই অধিবেশনের প্রথম তিন দিন দলীয় সাংসদদের উপস্থিত থাকতে হুইপ জারি করেছে বিজেপি ও কংগ্রেস।
Advertisement



