রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সাম্প্রতিক অনুযোগের জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধর্নামঞ্চ থেকে তিনি বলেন, বিজেপি রাষ্ট্রপতিকেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে। সেই ফাঁদেই পড়ে গিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। মমতা বলেন, ‘আজ বিজেপি সংবিধানকে কোথায় নিয়ে গিয়েছে! এটা বলতে আমাদের লজ্জা লাগে। মাননীয় রাষ্ট্রপতিকে আমরা সম্মান করি। কিন্তু তাঁকে দিয়েও পলিটিক্স বেচতে পাঠানো হয়েছে। বিজেপির এজেন্ডা পাঠানো হয়েছে। আমি দুঃখিত ম্যাডাম, আপনার প্রতি আমার যথেষ্ট সম্মান আছে। কিন্তু আপনি বিজেপির ট্র্যাপে (ফাঁদে) পড়ে গিয়েছেন।’
এদিন রাষ্ট্রপতির অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে মমতা বলেন, ‘আমরা নাকি কাউকে যেতে দিইনি। এটা তো কোনও পার্টির অনুষ্ঠান ছিল না, রাজ্য সরকারেরও অনুষ্ঠান ছিল না। রাজ্য সরকার তো জানেই না। হ্যাঁ, উনি কবে আসবেন, কবে যাবেন সেই তথ্য আমরা পাই। সেই মতো আমরা চেষ্টা করি। কিন্তু প্রতিদিন যদি কেউ না কেউ আসেন, সব সময় কি আমাদের যেতে হবে? আমাদের কি আর কাজকর্ম নেই? সারাক্ষণ আপনাদের লেজুড় হয়ে ঘুরতে হবে?’
Advertisement
তিনি আরও বলেন, ‘বছরে এক বার আসুন, আপনাকে গিয়ে রিসিভ করব। কিন্তু যদি বছরে ৫০ বার আসেন, তবে কি আমার এত সময় আছে?’ এর পরেই মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘আমি মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এসআইআর নিয়ে ধর্নায় বসে আছি। আপনার মিটিংয়ে যাব কী করে? কোনটা আমার প্রায়োরিটি? আপনি বিজেপির প্রায়োরিটি। আর আমাদের কাছে প্রায়োরিটি সাধারণ মানুষ। কোন সংগঠন এই অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে, সেটাও আমি জানি না। আমি তো ধর্নায় বসে আছি।’
Advertisement
মণিপুর প্রসঙ্গে মমতা প্রশ্ন তোলেন, ‘মণিপুরে যখন আদিবাসীদের উপর অত্যাচার হচ্ছিল, তখন চুপ ছিলেন কেন? তখন কেন প্রতিবাদ করেননি? দেশের অন্য রাজ্যে আদিবাসীদের উপর অত্যাচার হলে চুপ থাকেন। বাংলাকেই শুধু নিশানা করা হয় কেন?’
ভোটার তালিকা নিয়ে এসআইআর প্রসঙ্গেও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা এসআইআর নিয়ে লড়াই করছি। ভাববেন না এই লড়াই শুধু যাঁদের নাম কাটা হয়েছে তাঁদের জন্য। আজ যদি আপনার নাম ভোটার তালিকায় থাকে, ভোটের দিন গিয়ে দেখতে পান নাম নেই। এটাও একটা পরিকল্পনা। মনে রাখবেন, এর পর আসছে এনআরসি, বঙ্গভঙ্গ।’
তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়েও কথা বলেন মমতা। মমতার দাবি, ‘আমরা তিনটি প্রজন্ম তৈরি করেছি। আজ নবপ্রজন্ম আরও বেশি করে কথা বলছে। অন্য কোনও দলে এমন প্রস্তুতি আছে কি না জানি না, কিন্তু তৃণমূলে আছে। আগামী পঞ্চাশ বছর তারা কাজ করবে।’
Advertisement



