• facebook
  • twitter
Wednesday, 4 March, 2026

খড়্গপুর কলেজের অধ্যাপকের অভিনব উদ্যোগ

এই রঙে ব্যবহৃত বীজ যেন জীবিত অবস্থায় থাকে এবং উপযুক্ত পরিবেশে অঙ্কুরোদগম ঘটাতে পারে, সে দিকেও নজর রাখা হয়েছে

দোল মানেই রঙের উৎসব। কিন্তু সেই রঙই দিতে পারে নতুন সবুজ প্রাণের জন্ম।এমনই অভিনব ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন খড়্গপুর কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক হ্যাপি দাস। তিনি তৈরি করেছেন ‘সিড এমবেডেড অর্গানিক গুলাল’, অর্থাৎ বীজযুক্ত ভেষজ আবির। তাঁর বিশ্বাস, এর ফলে দোল কেবল রঙের  উৎসবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, পরিবেশ রক্ষা ও প্রাকৃতিক সম্পদ সৃষ্টির উৎসবেও পরিণত হবে।

দোলের পর গোটা শহর ও গ্রামাঞ্চলে রাস্তায় রাস্তায় পড়ে থাকে লাল, হলুদ, সবুজ, গোলাপি  আবির। সেই আবির থেকেই জন্ম নিতে পারে পাট, কলমী, নটে, মেথি শাক এমনকি ইউক্যালিপটাস গাছের চারাও। এই ধারণা থেকেই শুরু হয় গবেষণা। প্রায় এক বছর আগে পরীক্ষামূলকভাবে কাজ শুরু করেন তিনি।

Advertisement

রঙিন আবিরে থাকা রাসায়নিক ও অভ্রের গুঁড়ো ত্বক ও পরিবেশের ক্ষতি করতে পারে, এই উদ্বেগ থেকেই ভেষজ আবিরের প্রচলন বেড়েছে সম্প্রতি। তবে হ্যাপি দাস ভাবেন, শুধু ক্ষতি এড়ানো নয়, নতুন প্রাণ সৃষ্টি করার উদ্যোগ নেওয়াও সম্ভব হতে পারে।সেই লক্ষ্যেই প্রাকৃতিক উপাদান  অর্থাৎ চাল বা ভুট্টার মাড়, ময়দা কিংবা অ্যারারুট ব্যবহার করে আবির তৈরি করা হয়।

Advertisement

হলুদ আবির তৈরি করার  জন্য গাঁদা ও পলাশ, লালের জন্য বিটের মূল, সবুজ আবিরের জন্য পালং শাকের পাতা ব্যবহার করা হয়েছে। এর সঙ্গে মেশানো হয়েছে পাট, মেথি, কলমী, নটে ও  ইউক্যালিপটাসের বীজ, যা বাইরে থেকে বোঝা যায় না।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটি হল এই রঙে ব্যবহৃত বীজ যেন জীবিত অবস্থায় থাকে এবং উপযুক্ত পরিবেশে অঙ্কুরোদগম ঘটাতে পারে, সে দিকেও নজর রাখা হয়েছে।

গবেষণার ফল ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ সায়েন্টিফিক রিসার্চ ইন ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট নামক পত্রিকায়। অধ্যাপক জানিয়েছেন, এই উদ্ভাবনের পেটেন্ট নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁর কথায়, বিপুল পরিমাণ আবির থেকে যদি প্রাকৃতিক সম্পদ পাওয়া যায়, তবেই পাওয়া যাবে এই উৎসবের প্রকৃত সার্থকতা।

 

Advertisement