• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 25 July, 2026

দলের খোলনলচে বদল করলেন মমতা, ডানা ছাঁটলেন অভিষেকের

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিলেন, সংগঠনে নতুন ভারসাম্য আনার চেষ্টা করা হয়েছে। আবার দলের সমস্ত দায়িত্ব শুধুমাত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাঁধে রাখা হচ্ছে না।

দলের খোলনলচে বদল করলেন মমতা, ডানা ছাঁটলেন অভিষেকের

ক্ষমতার পালাবদল হতেই দলের অন্দরে বিদ্রোহ চরমে উঠেছে। বিধায়কদের একটা বড় অংশ জেতার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে শুরু করেন। দুই তৃতীয়াংশ বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলনেত্রী মেনে নিয়ে পরামর্শদাতা হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। অভিষেককে মেনে নিতে কেউ রাজি নন। এই আবহে এবার দলের খোলনলচে বদলে ফেললেন তৃণমূল সুপ্রিমো। একইসঙ্গে ডানা ছাঁটলেন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের।

দীর্ঘদিনের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে সরিয়ে এবার দলের রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হল চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে। পদ পরিবর্তন না হলেও একচ্ছত্র দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হল অভিষেকের। আজ, শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদেই থাকছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যুগ্ম জাতীয় সম্পাদক করা হয়েছে ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেনকে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাহায্য করবেন তাঁরা।

এই সিদ্ধান্তের মধ্যে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিলেন, সংগঠনে নতুন ভারসাম্য আনার চেষ্টা করা হয়েছে। আবার দলের সমস্ত দায়িত্ব শুধুমাত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাঁধে রাখা হচ্ছে না। সাজদা আহমেদ, মমতাবালা ঠাকুর এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজ্য সহ সভাপতি করা হয়েছে। রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাবর আলি, পুলক রায়, অসীমা পাত্র, অরূপ বিশ্বাস এবং রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এক্সিকিউটিভ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, রানা চট্টোপাধ্যায়, বিদেশ বসু, তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য, জয়া দত্ত, তাপস চট্টোপাধ্যায়, বসুন্ধরা গোস্বামী এবং গৌতম দেব।

এছাড়া যুব তৃণমূল সভাপতির দায়িত্বে থাকছেন সায়নী ঘোষ। যুব তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক মধুরিমা ঠাকুর। মহিলা তৃণমূলের সভাপতি মালা রায়। তৃণমূল ছাত্র পরিষদ সভাপতি প্রিয়াঙ্কা অধিকারী। তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসির সভাপতি মলয় ঘটক। হকার সংগঠনের সভাপতি মদন মিত্র। কৃষক সংগঠনের দায়িত্বে  বেচারাম মান্নাকে আনা হয়েছে। ক্ষেত মজদুর সংগঠনের দায়িত্বে পূর্ণেন্দু বসু। তফসিলি জাতি ও উপজাতি সংগঠন দেখবেন বীরবাহা হাঁসদা। মুখপাত্র করা হয়েছে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মদন মিত্র এবং কুণাল ঘোষকে। কোষাধ্যক্ষ শুভাশিস চক্রবর্তী। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় যা করেছেন তারপর মহিলা মুখের উপরই বেশি ভরসা করলেন তৃণমূলনেত্রী। তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ থেকে সরালেও দলের এক্সিকিউটিভ সদস্য করা হয়েছে। চাপে পড়েই এমন রদবদল বলে মনে করা হচ্ছে।