মহার্ঘ ভাতার (ডিএ) বকেয়া ইস্যুতে শীর্ষ আদালতের রায়ের পরও রাজ্য সরকার কোনও পদক্ষেপ না করায় আন্দোলনের পথে হাঁটছে সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। বুধবার সংগঠনের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, আগামী ১৩ মার্চ রাজ্যের সমস্ত সরকারি দপ্তরে তারা ‘বন্ধ মোবারক’ কর্মসূচি পালন করবে। ওই দিন দপ্তরে উপস্থিত থাকলেও সংগঠনের সদস্যরা কোনও সরকারি কাজ করবেন না।
গত ৫ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট ডিএ-র পুরনো বকেয়া সংক্রান্ত মামলায় রায় দেয়। আদালত নির্দেশ দেয়, ২০০৯ সালের আগস্ট থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া মহার্ঘ ভাতার ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। একই সঙ্গে বাকি ৭৫ শতাংশ কীভাবে ও কত কিস্তিতে দেওয়া হবে, তার রূপরেখা তৈরি করে দেয় আদালত। এই মুহূর্তে কেন্দ্র এবং রাজ্যের ডিএ-র মধ্যে যে ফারাক রয়েছে (৪০ শতাংশ, যা এপ্রিল থেকে কমে ৩৬ শতাংশ হবে) তার ক্ষেত্রে এই রায় প্রযোজ্য নয়।
বকেয়া ডিএ-র বাকি অংশ পরিশোধের প্রক্রিয়া নির্ধারণে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মলহোত্রের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে রয়েছেন ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি তরলোক সিংহ চৌহান, ছত্তীসগঢ় হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি গৌতম ভাদুড়ি এবং কেন্দ্রের ‘কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল’-এর এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। মোট বকেয়া অর্থ নির্ধারণ, কিস্তি ও সময়সীমা স্থির করা এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর অর্থপ্রদান হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করা— এই তিনটি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কমিটিকে।
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের নেতা সন্দীপ ঘোষ দাবি করেছেন, ডিএ দেওয়ার বিষয়ে আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও রাজ্য কোনও কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। তাঁর বক্তব্য, ৬ মার্চের মধ্যে প্রথম কিস্তি নিয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা থাকলেও তা হয়নি। এমনকি রাজ্য রায়ের বিরুদ্ধে পাল্টা আবেদন জানাতে পারে বলেও তাঁরা জানতে পেরেছেন। সেই কারণে ১৩ মার্চের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, অতীতে ধর্মঘট ও বন্ধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে এ বারও সরকারের তরফে কড়া পদক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।