• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 17 June, 2026

আমার ভাষা, আমার গর্ব—আমি বীরভূমের ভাষাতেই কথা বলব: জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়

বোলপুরের কঙ্কালীতলায় সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের জনকল্যাণ শিবিরে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বীরভূমের মানুষ হিসেবে তিনি নিজের আঞ্চলিক ভাষাতেই কথা বলবেন এবং তা নিয়ে কোনও সমালোচনাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না

কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সংক্রান্ত অনিয়ম নিয়ে তাঁর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কের জবাব দিলেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। সোমবার বোলপুরের কঙ্কালীতলায় সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের জনকল্যাণ শিবিরে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বীরভূমের মানুষ হিসেবে তিনি নিজের আঞ্চলিক ভাষাতেই কথা বলবেন এবং তা নিয়ে কোনও সমালোচনাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
সম্প্রতি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সংক্রান্ত দুর্নীতির প্রসঙ্গে এক সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেছিলেন, ‘কলেজে এবং বিশ্ববিদ্যালয় টাকা তুললে স্যাটা গরম করে দেব।’ এই মন্তব্য নিয়েই সমাজ মাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, একজন মন্ত্রীর মুখে এই ধরনের ভাষা কতটা গ্রহণযোগ্য।
সেই প্রসঙ্গেই সোমবার জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমি বীরভূমের ছেলে। নিজের ভাষাতেই কথা বলব। তাতে কারও পছন্দ হোক বা না হোক, বীরভূমের ভাষায় কথা বলা বন্ধ হবে না। আমি যে জেলার মানুষ, সেই জেলার কিছু শব্দ আমার মুখে আসতেই পারে। মানুষের কী বলা উচিত, কী খাওয়া উচিত, কী পরা উচিত তা নির্ধারণ করার অধিকার কারও নেই।
তাহলে আমার ভাষা নিয়ে এত আপত্তি কেন? মন্ত্রী দাবি করেন, তাঁর বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল ভর্তি প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান তুলে ধরা। কিন্তু সেই মূল বিষয় থেকে নজর সরিয়ে তাঁর ভাষাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে। বীরভূমের আঞ্চলিক ভাষাতেই তিনি বলেন, ‘সামান্য দুটি শব্দ বলেছি অমনি গুঁতিয়ে দিছেন, খেদিয়ে দিছেন। এ মানব না। আমি যে জেলার, সেই জেলার দুটো-একটো কথা মুখ দিয়ে বেরবেই।’
এরপর আরও বলেন, ‘আপনারাই বলেন মানুষ কী বলবে, কী করবে, কী খাবে, কী পড়বে— সেটুতে কারও কিছুই বলার নাই। তাহলে আমাকে নিয়ে এত জ্বালা কেন? আমি তো নিজের ভাষায় কথা বলছি। আমার ভাষার দাম নাই? আমার ভাষার সম্মান নাই?’
জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, অনেকেই বীরভূম ও রাঢ়বঙ্গের ভাষা-সংস্কৃতি না বুঝেই সমালোচনা করছেন। তাঁর কথায়, ‘যাঁরা এই ভাষার সমালোচনা করছেন, তাঁরা আসলে রাঢ়বঙ্গের মানুষকেই অপমান করছেন। তাই বীরভূমের ভাষা আমি বলবই। এটাই আমার মাতৃভাষা।’
একইসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, তৃণমূল সরকারের আমলে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিকবার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল।
বর্তমান সরকার সেই সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে বদ্ধপরিকর। তাঁর বক্তব্য, “কেউ যদি ভর্তি নিয়ে টাকা তোলে, তাহলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে। ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না।”সবশেষে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন, ‘আমার ভাষা আমার গর্ব। আমি বীরভূমের মানুষ, বীরভূমের ভাষায় কথা বলব। নিজের মাটি ও নিজের ভাষার পরিচয় কোনওদিন অস্বীকার করব না।’