ছত্তিশগড়ের মহাসমুন্দ জেলায় বড় ধাক্কা খেল মাওবাদী সংগঠন। নিরাপত্তা বাহিনীর চাপে পড়ে শনিবার ৯ জন মহিলা-সহ মোট ১৫ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন। তাঁদের কাছে থাকা অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র পুলিশ প্রশাসনের হাতে তুলে দিয়েছেন। প্রশাসনের মতে, এই ঘটনা রাজ্যের মাওবাদী দমনে চলা অভিযানের এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আত্মসমর্পণকারী এই ১৫ জন মাওবাদীর মধ্যে ছয় জন পুরুষ ও নয় জন মহিলা রয়েছেন। তাঁরা সকলেই ওড়িশা-ছত্তিশগড় সীমান্তে সক্রিয় বালাংগির-বারগড়-মহাসমুন্দ কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী অরণ্যাঞ্চলে সক্রিয় ছিল। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
Advertisement
রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বিজয় শর্মা এই আত্মসমর্পণকে মাওবাদী বিরোধী অভিযানের বড় সাফল্য বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘এই ১৫ জন হিংসার পথ ত্যাগ করে সমাজের মূলস্রোতে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটি নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক চাপ, উন্নয়নমূলক উদ্যোগ এবং সরকারের পুনর্বাসন নীতির ফল।’
Advertisement
আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীরা পুলিশের হাতে মোট ১৪টি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে তিনটি একে-৪৭ রাইফেল, দুটি স্বয়ংক্রিয় স্বলোডিং রাইফেল এবং দুটি ইনসাস রাইফেল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী সদস্যদের মধ্যে ডিভিশনাল কমিটি, এরিয়া কমিটি এবং পার্টির বিভিন্ন স্তরের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরাও রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে মোট প্রায় ৭৩ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের পুনর্বাসন নীতির আওতায় আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের আর্থিক সহায়তা, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা দেওয়া হবে। তাঁদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং অন্যান্য সামাজিক সহায়তাও নিশ্চিত করা হবে। পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত কয়েক বছরে মাওবাদী প্রভাবিত এলাকাগুলিতে রাস্তা নির্মাণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং কর্মসংস্থান প্রকল্পের মতো উন্নয়নমূলক উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে। এর ফলে বহু যুবক-যুবতী মাওবাদী সংগঠন ছেড়ে মূলস্রোতে ফিরে আসছেন।
রাজ্য সরকার ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে ছত্তিশগড় থেকে মাওবাদী কার্যকলাপ সম্পূর্ণ নির্মূল করার লক্ষ্য নিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আত্মসমর্পণের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রশাসন মনে করছে, মাওবাদীদের প্রভাব ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।
Advertisement



