জামিন পেয়েছিলেন আগেই। এবার আবগারি দুর্নীতি থেকে রেহাই পেলেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া। দিল্লির রাউজ এভিনিউ কোর্ট এদিন জানিয়ে দেয়, আবগারি নীতিতে কোনওরকম অপরাধমূলক উদ্দেশ্য বা ষড়যন্ত্র ছিল না। তা প্রমাণ করতে পারেনি সিবিআই।
বিচারকের পর্যবেক্ষণ, তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর চার্জশিটে গুরুতর ত্রুটি রয়েছে এবং অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ দাখিল করতে পারেনি। রায় ঘোষণার পর কেঁদে ফেলেন আম আদমি পার্টির সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন ‘আপনারা কুর্সি চান, ভাল কাজ করে সেটা অর্জন করুন। এ ভাবে দেশের সংবিধান নিয়ে ছেলেখেলা করবেন না।
Advertisement
মণীশ সিসোদিয়া সৎ, আম আদমি পার্টি সৎ।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিজেপি আমাদের উপর একের পর এক দোষ চাপাচ্ছিল, আদালত সব খারিজ করে দিয়েছে। সমস্ত অভিযুক্তকে অব্যাহতি দিয়েছে। আমি প্রথম থেকেই বলে এসেছি, সত্যের জয় হবে। দেশের বিচারব্যবস্থার উপর আমার ভরসা ছিল। যে বিচারক আমাদের ন্যায়বিচার দিলেন, তাঁকে ধন্যবাদ।’
Advertisement
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। আপ দলের পাঁচ জন বড় নেতাকে বিজেপি নিশানা করেছিল বলে দাবি করেন তিনি। কেজরি বলেন, ‘সিসোদিয়াকে দু’বছর জেলে রাখা হয়। পুরো ভুয়ো মামলা।
আমাদের উপর অনেক কাদা ছোঁড়া হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা টিভি চ্যানেলে খবর দেখানো হত। বলা হত, কেজরিওয়াল ভ্রষ্ট, দুর্নীতিগ্রস্ত।’ এর পরেই কেঁদে ফেলেন তিনি। কান্নায় তাঁর গলার স্বর বুজে আসে। তাঁকে বাড়ি থেকে টেনে নিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছিল। ছ’মাস আটকে রাখা হয়েছিল। তখন তাঁর কান্না পায়নি। আদালতের নির্দেশ শুনে তিনি কেঁদে ফেলেন।
এই মামলায় বিআরএস নেত্রী কবিতা-সহ মোট ২১ জনকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, ষড়যন্ত্রের যে তত্ত্ব সিবিআই তুলে ধরেছিল, তা তথ্যপ্রমাণের অভাবে টেকেনি। সিবিআইয়ের তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, আবগারি দুর্নীতি মামলায় মূল চক্রান্তকারী ছিলেন কেজরিই। শুক্রবার সিবিআইয়ের উদ্দেশে নিম্ন আদালতের বিচারক জিতেন্দ্র সিংহ বলেন, ‘অভিযোগের সপক্ষে তথ্যপ্রমাণ দাখিল করতে না-পারলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের উপর মানুষের আস্থা টলে যায়।‘
সিসোদিয়াকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষেত্রে আদালতের পর্যবেক্ষণ, সিবিআই এমন কোনও তথ্যপ্রমাণ দাখিল করেনি, যা থেকে সিসোদিয়ার অপরাধমূলক আচরণের কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়। আদালতের বক্তব্য, তদন্তকারী সংস্থার তরফে যে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের কথা বলা হয়েছিল, তা স্ববিরোধিতায় ভরা।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রেপ্তার হন সিসোদিয়া। প্রায় ১৮ মাস জেলবন্দি থাকার পর তিনি জামিন পান। ২০২৪ সালের জুনে কেজরিওয়ালকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই; পরে ইডিও তাঁকে আটক করে। পদে থাকাকালীন হাজতবাস করা দেশের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হন তিনি। পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মুক্তি মিললেও মামলা চলছিল।
২০২১ সালের নভেম্বরে দিল্লি সরকার নতুন আবগারি নীতি চালু করে, যেখানে সরকারি দোকানের বদলে বেসরকারি বিক্রেতাদের লাইসেন্স দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। কেজরিওয়াল সরকার চেয়েছিল, নতুন করে ৮৪৯টি মদের দোকান খোলা হবে। রাজধানীর ৩২টি অঞ্চলে এই মদের দোকান খোলার পরিকল্পনা ছিল।
নতুন আবগারি নীতিতে মদের কালোবাজারি বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব আদায় বাড়বে বলে দাবি করেছিলেন দিল্লির তদানীন্তন উপমুখ্যমন্ত্রী তথা আবগারি দপ্তরে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সিসোদিয়া। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় আট মাসের মধ্যেই নীতি প্রত্যাহার করা হয়। তারই মধ্যে দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর বিনয়কুমার সাক্সেনা সরকারের নতুন নীতিতে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সিবিআই তদন্তের সুপারিশ করেন। অবশেষে আদালতের রায়ে স্বস্তি মিলল কেজরিওয়াল, সিসোদিয়া-সহ আপের কর্মীদের।
Advertisement



