• facebook
  • twitter
Thursday, 26 February, 2026

ভারত–ইজরায়েল ঘনিষ্ঠতায় অস্বস্তি, নেতানিয়াহুকে নিশানা করে প্রস্তাব পাশ পাকিস্তান সেনেটে

ভারত বরাবরই জানিয়েছে, ইজরায়েলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক জাতীয় নিরাপত্তা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে এবং এটি কোনও নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়।

ভারত ও ইজরায়েলের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রস্তাব পাশ করল পাকিস্তান সেনেট। এই প্রস্তাবে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্তব্যের সমালোচনা করা হয়েছে। ভারত–ইজরায়েল সহযোগিতাকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ‘হুমকি’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই পদক্ষেপ এমন সময় নেওয়া হল, যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইজরায়েল সফরে গিয়ে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। দুই দেশের মধ্যে নতুন একটি নিরাপত্তা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে, যার মাধ্যমে ভারতে যৌথভাবে অস্ত্র ব্যবস্থা উন্নয়ন করা হবে।

Advertisement

ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্ক ২০১৭ সালে মোদীর প্রথম ইজরায়েল সফরের সময় কৌশলগত অংশীদারিত্বের পর্যায়ে উন্নীত হয়। সাম্প্রতিক সফরের মাধ্যমে সেই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘনিষ্ঠতা পাকিস্তানের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করেছে। পাকিস্তান সেনেটের প্রস্তাবে ভারত–ইজরায়েল জোটকে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলিকে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

Advertisement

প্রসঙ্গত, ভারত ও ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নতুন নয়। কার্গিল যুদ্ধের সময় ভারতীয় বায়ুসেনার মিরাজ–২০০০ যুদ্ধবিমান ইজরায়েলের লেজার নির্দেশিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাকিস্তানি অনুপ্রবেশকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এছাড়া ড্রোন, লেজার–নির্দেশিত বোমা, এবং বিভিন্ন উন্নত অস্ত্র ব্যবস্থায় ইজরায়েল ভারতের অন্যতম প্রধান সহযোগী। সাম্প্রতিক যৌথ অস্ত্র উন্নয়ন চুক্তি পাকিস্তানের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

পাকিস্তানের গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলেও এই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন টেলিভিশন বিতর্কে ভারত–ইজরায়েল সম্পর্ককে পাকিস্তান ও চীনের বিরুদ্ধে লক্ষ্য করে তৈরি জোট হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পাকিস্তানের কিছু বিশেষজ্ঞ দাবি করেছেন, এই অংশীদারিত্ব আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন আনতে পারে।

তবে ভারত বরাবরই জানিয়েছে, ইজরায়েলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক জাতীয় নিরাপত্তা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে এবং এটি কোনও নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে ভারত–ইজরায়েল সম্পর্ক আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আর সেই কারণেই পাকিস্তান এই নতুন সমীকরণ নিয়ে কৌশলগত অস্বস্তিতে ভুগছে বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisement