আন্তর্জাতিক রাজনীতির টানাপোড়েনের মধ্যেই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে একান্তে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও সন্ত্রাস দমনে যৌথ অবস্থান আরও শক্তিশালী করার বিষয়টি উঠে এসেছে এই কথোপকথনে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর সূত্রের খবর, বুধবার সকালে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে এই আলোচনা হয়।
Advertisement
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে ঘিরে আমেরিকার পদক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। ‘মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ’ নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা। এই প্রেক্ষাপটে কোনওভাবেই যাতে ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষের শান্তি ও স্থিতি বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এমন এক পরিস্থিতিতেই ভারত ও ইজরায়েলের নেতৃত্বের মধ্যে যোগাযোগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
Advertisement
নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর প্রধানমন্ত্রী নিজের এক্স হ্যান্ডলে জানান, ‘আমার বন্ধু ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলতে পেরে আমি আনন্দিত। তাঁকে ও ইজরায়েলের জনগণকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছি। আগামী দিনে ভারত-ইজরায়েল কৌশলগত অংশীদারিত্বকে কীভাবে আরও মজবুত করা যায়, তা নিয়েও আমরা আলোচনা করেছি।’
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই ফোনালাপ কেবল সৌজন্য বিনিময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। দুই দেশের আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সন্ত্রাসবাদের হুমকি নিয়েও বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। প্রধানমন্ত্রী আরও লেখেন, ‘আমরা আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আরও দৃঢ় সংকল্পের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি।’
কূটনৈতিক মহলের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও বিশ্ব রাজনীতির পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্যে ভারত-ইজরায়েল সম্পর্কের সমীকরণ এক নতুন মাত্রা পেতে চলেছে। সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থান, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব— এই সব ক্ষেত্রেই আগামী দিনে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হতে পারে বলে এই ফোনালাপ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে।



