• facebook
  • twitter
Tuesday, 24 February, 2026

আমেরিকায় ভারতের ১০% শুল্ক কার্যকর

তবে শুল্কের হার ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে— এমন ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই দিয়েছেন ট্রাম্প, যদিও এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক সরকারি নির্দেশ জারি হয়নি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে নতুন শুল্ক নীতি কার্যকর হল মঙ্গলবার থেকে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক নির্দেশ অনুযায়ী, ভারত-সহ সব দেশের পণ্যের উপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসানো হয়েছে, যা আগামী ১৫০ দিন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। তবে শুল্কের হার ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে— এমন ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই দিয়েছেন ট্রাম্প, যদিও এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক সরকারি নির্দেশ জারি হয়নি। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি।

গত সপ্তাহে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্ববর্তী উচ্চ হারের শুল্ক আরোপকে বেআইনি বলে ঘোষণা করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন ব্যবহার করে এত বড় পরিসরে শুল্ক আরোপ করার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছিলেন। এই রায়ের পরই ২১ ফেব্রুয়ারি নতুন নির্দেশ জারি করে ট্রাম্প প্রশাসন, যাতে ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে সব দেশের জন্য সাময়িকভাবে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক ধার্য করা হয়।

ভারতের রপ্তানিকারকদের সংগঠন ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনস (এফআইইও)-এর ডিরেক্টর জেনারেল অজয় সহায় জানান, বর্তমানে কার্যকর নির্দেশ অনুযায়ী ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্কই প্রযোজ্য। তবে ভবিষ্যতে এটি ১৫ শতাংশে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে রপ্তানিকারকরা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছেন।

Advertisement

এই নতুন শুল্ক বিদ্যমান ‘মোস্ট ফেভার্ড নেশন’ (এমএফএন) শুল্কের উপর অতিরিক্ত হিসেবে যোগ হবে। উদাহরণস্বরূপ, কোনও পণ্যের উপর আগে যদি ৫ শতাংশ শুল্ক থাকত, তবে এখন সেটি বেড়ে মোট ১৫ শতাংশ হবে। আগে কিছু ক্ষেত্রে এই হার ৩০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছিল, ফলে বর্তমান হার তুলনামূলকভাবে কম হলেও অনিশ্চয়তা ব্যবসায়ীদের দুশ্চিন্তায় রাখছে।

Advertisement

মুম্বই-ভিত্তিক শিল্পপতি শরদ কুমার সরাফ বলেন, আমেরিকা ভারতের অন্যতম বড় রপ্তানি বাজার হওয়ায় শুল্ক কাঠামো নিয়ে স্পষ্টতা অত্যন্ত জরুরি। শুল্কের হার স্থির ও পরিষ্কার হলে ভারতীয় সংস্থাগুলি আরও বেশি আত্মবিশ্বাস নিয়ে মার্কিন বাজারে রপ্তানি বাড়াতে পারবে। চামড়া ও জুতো শিল্প, সামুদ্রিক খাদ্য এবং উৎপাদন-নির্ভর বিভিন্ন খাত এই সিদ্ধান্তে সরাসরি প্রভাবিত হবে। শিল্পমহলের মতে, শুল্ক ১০ শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকলে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান কিছুটা বজায় রাখা সম্ভব হবে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, যুক্তরাষ্ট্রই বর্তমানে ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। ভারতের মোট রপ্তানির প্রায় ১৮ শতাংশ যায় আমেরিকায়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুই দেশের মোট দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তাই নতুন শুল্ক নীতি ভারতের রপ্তানি, শিল্প উৎপাদন এবং সামগ্রিক অর্থনীতির উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

Advertisement