শোভন মণ্ডল
বিজনবাবু বাড়ি থেকে বেরিয়ে একবার ঘুরে দাঁড়ালেন। নিজের বাড়িটার দিকে তাকালেন। এতদিন খেয়াল করেননি। আজ দেখলেন বাড়িটার চারপাশে কেমন ভগ্নদশা হয়ে গিয়েছে। এখানে-ওখানে পলেস্তারা খসে পড়েছে। রং চটে গিয়েছে। মনটা খারাপ হল।
Advertisement
যদিও এমনিতেই মনটা আজ ভালো নেই। স্ত্রী বিপাশার সঙ্গে আজ সকালেও একচোট ঝগড়া হয়ে গিয়েছে। ঝগড়ার কারণ অবশ্য আলাদা। তবে ঝগড়ার কারণ আর তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। রোজ ঝগড়া হবেই। আজ এক বিষয়, তো কাল আরেক। ঝগড়াটাই আসল কথা।
Advertisement
বিজনবাবু ব্যাগটাকে কাঁধে নিয়ে নেন। হালকা ব্যাগ। তেমন কিছু আনেননি। জলের বোতল শুধু আছে। তাও অর্ধেক ভরা। আর নিজের অফিসের আই কার্ড। আবহাওয়া বুলেটিনে বলেছিল বিকেলের পর ঝোড়ো হাওয়া বইবে, তার সঙ্গে কয়েক পশলা বৃষ্টি। তবুও বিজনবাবু ছাতাটা আর নেননি।
আজ একটু দেরি করে বেরিয়েছেন। সাধারণত আরও আধা ঘণ্টা আগে অফিসের জন্য বাড়ি থেকে বেরোন। কিন্তু আজ দেরি হয়ে গিয়েছে। বিজনবাবু জানেন তাতে কিছু যায় আসে না।
বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দাঁড়ালেন। একটা বাস এল। এই বাসেই তিনি রেল স্টেশন পর্যন্ত যান। সেখান থেকে ট্রেনে অফিস। সব মিলিয়ে দেড় ঘণ্টার পথ। ভিড় বলে বিজনবাবু কয়েকটা বাস ছেড়েই দিলেন। তাতে আরও আধ ঘণ্টা দেরি হল। ঠিক করলেন বাসে আর যাবেন না। ট্যাক্সি নিয়ে নেবেন। একটা ট্যাক্সি পেলেন বটে, কিন্তু ট্যাক্সি ড্রাইভার সামান্য দশ মিনিটের পথ যেতে দেড়শো টাকা চেয়ে বসল। বিজনবাবু দরাদরি করলেন না। চুপচাপ ট্যাক্সিতে বসলেন। এমনিতে ট্যাক্সি করে অফিস কোনোদিন যান না। তার যা বেতন তাতে তা মানায় না। বিশাখা এই বেতন নিয়ে কম খোঁটা দেয়!
ট্যাক্সিতে উঠে বাইরের দিকে তাকালেন বিজনবাবু। কত মানুষ ছুটে চলেছে। দৌড়চ্ছে কাজের জন্য।
‘স্যার ক’টা বাজে?’
দু’বার জিজ্ঞাসা করল ড্রাইভার। একটু আনমনা হয়ে গিয়েছিলেন বিজনবাবু। ড্রাইভারের কথা শুনে একবার হাতের দিকে তাকালেন। এই রে! আজ ঘড়ি পরতে তিনি ভুলে গিয়েছেন। ব্যাগ থেকে মোবাইল বের করে সময় বললেন।
‘একটু ঘুরে যেতে হবে। সামনের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। কোন পার্টির যেন পথসভা আছে।’
বিজনবাবু অন্য দিন হলে বিরক্ত হতেন। কিন্তু আজ নির্বিকার থাকলেন। শুধু মুখে বললেন, ‘দ্যাখো, যেদিকে গেলে সুবিধা সেদিক দিয়ে চলো।’
ড্রাইভার অন্যদিকের রাস্তা ধরল। বিজনবাবু জানেন এই রাস্তা দিয়ে গেলে আরও পনের মিনিট বেশি লাগবে। অফিস যাওয়ার দ্বিতীয় ট্রেনটাও ছুটে যাবে। ড্রাইভার যেন গল্প করতে চায়। মুখটা ঘুরিয়ে জিজ্ঞাসা করল, ‘আজ নাকি বিকেলের দিকে খুব বৃষ্টি হবে? আবার তো জল জমবে।’
বিজনবাবু এই কথায় খুব একটা উৎসাহ দেখালেন না। শুধু ‘হুঁ’ বলে মুখ দিয়ে একটা শব্দ করলেন।
জ্যামে গাড়িটা দাঁড়াল। একটা বাচ্চা ছেলে হাত বাড়িয়ে ভিক্ষে চাইল। বিজনবাবু পকেট থেকে মানিব্যাগটা বের করে একশ টাকা ছেলেটাকে দিয়ে দিলেন। সাধারণত এসব ক্ষেত্রে ভিক্ষে দেওয়া তার ধাতে নেই। অন্যদিন হলে গাড়ির কাচ তুলে দিতেন। কিন্তু আজ আর সেটা করলেন না। ড্রাইভারও বুঝি টাকার পরিমাণটা দেখে নিয়েছে। নিজের মনেই সে বলল, ‘খেটে খাবার মুরোদ নেই, শুধু ভিক্ষে করবে!’ বিজনবাবু কোনও কথা বললেন না।
সামনে একটা জটলা দেখা গেল। গাড়িগুলো সব লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। কোনও অ্যাক্সিডেন্ট-ট্যাক্সিডেন্ট কিছু হয়েছে মনে হয়। গাড়ি এখন নট নড়নচড়ন। দশ মিনিট এইভাবে কাটল। তার পরেও গাড়ির চাকা গড়াল না। ড্রাইভার ‘দেখে আসি’ বলে একটু এগিয়ে গেল। ফিরে এল কয়েক মিনিট পর।
‘একটা বাচ্চা ছেলের ওপর দিয়ে গাড়ি চলে গিয়েছে। একেবারে রক্তারক্তি ব্যাপার।’
‘তা এখানে না রেখে হসপিটালে নিয়ে যাক।’ বিজনবাবু না বলে পারলেন না।
পুলিশ এল। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে আস্তে আস্তে ফাঁকা হয়ে গেল রাস্তা। গাড়ি আবার চলতে লাগল।
অন্যদিন হলে ফোনের দিকে চোখ রেখে সময় কেটে যেত। কিন্তু আজ ফোন দেখতেও ইচ্ছে করছে না। ছেলের কথা খুব মনে পড়ছে। বোলপুরে হস্টেলে থাকে। গত পুজোতে বাড়ি এসেছিল। একটু রোগা হয়ে গিয়েছে। খাওয়া-দাওয়া ঠিক করছে কিনা কে জানে!
স্টেশনে আসতে পাক্কা এক ঘণ্টা লাগল। অন্যদিন হলে কুড়ি মিনিটে পৌঁছে যান বিজনবাবু। ড্রাইভারকে ভাড়া মিটিয়ে গুটি গুটি পায়ে স্টেশনের দিকে এগোলেন। পা যেন সরছে না। খুব ভারি হয়ে গেছে যেন পা-গুলো।
অফিস যাওয়ার পরপর দুটো ট্রেনই বেরিয়ে গেছে। এর পরের ট্রেন ঘণ্টাখানেক পর। বিজনবাবুর অবশ্য তাতে কোনও হেলদোল নেই। বিপাশার কথা একবার মনে হল। আবার যেন রাগটা তেতে উঠল।
চার নাম্বার প্ল্যাটফর্মের দিকে এগোলেন। ওদিকটা একটু ফাঁকা। একটা বেঞ্চিতে বসলেন। ওপরে ফ্যান চলছে। তবুও গরম হচ্ছে বিজনবাবুর। হাওয়া গায়ে লাগছে না। ব্যাগ থেকে জলের বোতল বের করে ঢকঢক করে জল খেলেন। ঘাম মুছলেন রুমাল দিয়ে।
এই প্ল্যাটফর্ম দিয়ে একটা থ্রু ট্রেন যাওয়ার কথা। আনমনা হয়ে বসে আছেন তিনি।
‘কী হে বিজন? এত দেরি?’
পিছন ফিরে বিজনবাবু দেখলেন নরহরিদা। নরহরিদা একই পাড়াতে থাকেন। কোথায় যেন স্কুলে পড়ান। পাড়াতে যে খুব একটা দেখা সাক্ষাৎ হয়, তা নয়। তবে বিভিন্ন অকেশনে ঠিক দেখা হয়ে যায়।
‘হ্যাঁ, একটু দেরি হয়ে গিয়েছে। আপনি স্কুলে যাননি?’
এ প্রশ্ন না করলে খারাপ দেখায়। তাই ভদ্রতার খাতিরে বিজনবাবু জানতে চাইলেন।
‘আজ ডুব মেরেছি। এক বন্ধুর বাড়ি যাব। সপরিবারে।’
বিজনবাবু এতক্ষণে দেখতে পেলেন— নরহরিদা শুধু একা নয়, স্ত্রী-ছেলে-মেয়েও দাঁড়িয়ে আছে পিছনে।
নরহরিদা একটু পিছনে সরে গেলেন। পরিবারের সঙ্গে মিলে গেলেন।
বিজনবাবু উঠে পড়লেন। তারপর নরহরিদার চোখ এড়িয়ে দুই নাম্বার প্লাটফর্মের দিকে এগিয়ে গেলেন।
এখানে ভিড়টা একটু বেশি। কোনও বেঞ্চি ফাঁকা নেই। তার ওপর স্টলগুলো থাকায় দাঁড়াবার জায়গাও বেশি নেই। বিজনবাবু একটা চায়ের দোকানের পিছনের দিকে গিয়ে দাঁড়ালেন। ঠিক এই সময়ে চার নাম্বারের থ্রু ট্রেনটা বেরিয়ে গেল।
দু’নম্বরে ট্রেন আসতে আধ ঘণ্টা দেরি। পাখা চললেও হাওয়া তেমন গায়ে লাগছে না। তার ওপর আজ গরমটা বেশি মনে হচ্ছে। রুমাল দিয়ে ঘন ঘন মুখ মুছলেন। চায়ের দোকানে একটা চা অর্ডার দিলেন। ফোন এল। ছেলে ফোন করেছে। আজ প্রথম সেমিস্টারের রেজাল্ট বেরনোর কথা। সেই কারণে বোধহয় ফোন। না হলে এই সময় ফোন করে না।
‘বাবা, নাইনটি পারসেন্ট হয়েছে।’ ছেলের কথাতে যেন আনন্দ ঝরে পড়ছে। বিজনবাবু একটু খুশি হলেন। তারপর উপদেশ দেওয়ার মতো বললেন, ‘ভালো করে পড়িস বাবা, তোকে আরও উঁচুতে উঠতে হবে।’ আরও দু’একটা কথা বলার পর ফোনটা ব্যাগে ঢোকালেন।
কিন্তু আবার ফোনটা বাজল। সীতেশ ফোন করেছে। অফিসের কলিগ। দেরি হচ্ছে দেখে ফোন করেছে। আসলে কখন দু’ঘণ্টা কেটে গিয়েছে খেয়ালই নেই বিজনবাবুর।
‘আজ আর যেতে পারব বলে মনে হচ্ছে না সীতেশ। আর আমার আলমারির চাবিটা বাঁদিকের ড্রয়ারে আছে। বসকে দিয়ে দিও।’
সীতেশ যেন অবাক হয়। ‘কেন গো? শরীর-টরির ঠিক আছে তো?’ আসলে বিজনবাবু অফিসে খুব একটা ছুটি-টুটি নেন না। কালে-ভদ্রে ছুটি নিলেও আগে থেকে জানিয়ে দেন।
‘না, না শরীর ঠিক আছে সীতেশ। আসলে বাড়ি থেকে বেরোতে দেরি হয়ে গিয়েছে। ট্রেনগুলো মিস করেছি। এখনও প্লাটফর্মেই বসে আছি। আর গিয়ে লাভ নেই। এবার বাড়ি ফিরে যাব।’
সীতেশ ফোন রাখে। তবে বিজনবাবুর কথায় তার যেন কেমন কেমন লাগে।
বেশ কিছুক্ষণ ট্রেন আর আসছে না। প্লাটফর্মে ভিড় বাড়তে বাড়তে দ্বিগুন হয়ে গিয়েছে। তিল ধারণের জায়গা নেই। লোকদের মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে সবাই খুব অসহিষ্ণু। সকলেই জানতে উৎসুক এতক্ষণ ট্রেন আসছে না কেন। মুখে মুখে নানারকম খবর রটছে। মিনিট কুড়ি পর ঘোষণা শোনা গেল— আগের স্টেশনে অবরোধ হওয়ায় ট্রেন চলাচল আপাতত বন্ধ। ভারি সমস্যায় পড়ে গেলেন বিজনবাবু। ফিরে যেতেও মন চাইছে না। সে-ই তো বাড়ি ফিরে যেতে হবে! বিপাশার মুখঝামটা খেতে হবে। বিজনবাবুর পা যেন বাড়ির দিকে আর সরছে না।
প্রতিটা মানুষ যেন উদ্বিগ্ন। কেউ ফোন করে অফিসের ওপরওলাকে বোঝাচ্ছে, কেউ বিকল্প পথের সুলুকসন্ধান জানার চেষ্টা করছে। মিনিট পনেরো পর ভিড়টা যেন একটু কমতে থাকল। অনেকেই হয় অন্যভাবে যাওয়ার জন্য বেরিয়ে যাচ্ছে কেউ বা সোজা বাড়িমুখো হচ্ছে। এই লাইনে ট্রেনের গণ্ডগোল যেন লেগেই আছে।
চায়ের দোকান থেকে আর একবার একটা চা নিলেন বিজনবাবু। এলাচি চা। অনেক দিন পর খাচ্ছেন। বেশ বানিয়েছে চা-ওলা। ভাঁড়টা শেষ করে আরেক ভাঁড় নিলেন। বেশ একটা আমেজ তৈরি হল। এতক্ষণে ভিড় আরও ফাঁকা হয়ে গিয়েছে। অবরোধ কখন উঠে যাবে কেউ জানে না। সকলেই ধরেই নিচ্ছে ঘণ্টা-খানেকের আগে অবস্থার কোনও পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। যারা এখনও প্লাটফর্মে আছে তারা সব অতি আশাবাদী।
বিজনবাবু ভাবলেন— আজই যত গণ্ডগোল! তার সঙ্গে এরকম কেন হয়? এতক্ষণে একটা বেঞ্চি ফাঁকা হল। বিজনবাবু বেঞ্চিতে বসলেন। মনটা কেমন উড়ু উড়ু। এক মনে তাকিয়ে আছেন রেলের দুটো লাইনের দিকে। বুক ভরে একবার নিঃশ্বাস নিলেন। কত কিছু কথা মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। মনে হচ্ছে— সব কিছু যেন কেমন এলোমেলো। কোনও চিন্তাই স্থির থাকছে না। একটার ওপর আরেকটা চিন্তা এসে ভিড় করছে। অথচ সব কিছু আজ ঝেড়ে ফেলতে চাইছিলেন।
কিছুক্ষণ আনমনা ছিলেন বোধহয়। প্রথমে খেয়াল করেননি পাশে একটা লোক এসে বসেছে। খকখক করে কাশির আওয়াজ শুনে বিজনবাবু আড়চোখে তার দিকে তাকালেন। বয়স্ক লোক। চুল উসকোখুসকো। চিরুনি কোনো দিন পড়েছে বলে মনে হয় না। ধুতি আর কালো একটা জামা পরা। কোমরে একটা সাদা কাপড় বাঁধা আছে। চুপচাপ বসে আছে লোকটা। কেমন যেন উদাসীন। বিজনবাবু অন্য দিকে মন দিলেন। ট্রেনের কোনো ঘোষণা নেই। আদৌ ট্রেন আসবে কি না কে জানে! মোবাইলে সময় দেখলেন। অনেক বেলা হয়ে গিয়েছে।
‘কীরে শালা! মরার জন্য ছটপট করছিস?’
বেশ ঘাবড়ে গিয়ে পাশে ঘাড় ঘোরালেন বিজনবাবু। বুড়ো লোকটা তার দিকে তাকিয়ে ফোকলা গালে হাসছে। লোকটা এই কথা বলল? বিজনবাবুর যেন বিশ্বাসই হয় না। বৃদ্ধ লোকটা হাসি-হাসি মুখ করে তার দিকে এখনো তাকিয়ে আছে।
‘আপনি আমাকে কিছু বললেন?’
বিজনবাবু জানতে চাইলেন।
‘হ্যাঁ রে শালা! তোকে ছাড়া আর কাকে বলব?’
লোকটা ভারি অসভ্য তো! চেনা নেই জানা নেই তাকে তুই তোকারি করছে, আবার ‘শালা’ বলছে! পাগল নাকি! কিন্তু পাগল তো হবার কথা নয়। যা বলছে তা তো একেবারে সত্যি কথা! কিন্তু লোকটা জানল কী করে?
‘আপনি কে? এসব কী বলছেন?’
আবার প্রশ্ন করলেন তিনি।
বৃদ্ধ লোকটি বিজনবাবুর কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে বলল, ‘মরার খুব শখ না?’
বিজনবাবু যে ট্রেনের তলায় সুইসাইড করতে এসেছেন এটা এই লোকটা জানল কী করে! একথা তো ঘুণাক্ষরেও কারোর জানার কথা নয়। কাল রাতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আজই সুইসাইড করবেন। কিন্তু লোকটা জানল কী করে?
‘আপনি কে? কী করে এসব জানলেন?’ একথা না বলে পারলেন না বিজনবাবু।
বৃদ্ধ মানুষটা তার একটা শীর্ণ হাত বিজনবাবুর হাতে স্পর্শ করল। কেমন যেন শিউরে উঠলেন বিজনবাবু। লোকটি মাথা নেড়ে নেড়ে বলল, ‘ওরে পালিয়ে যাসনে, এ জগৎ থেকে পালিয়ে যাসনে। জগতে এসেছিস যখন কিছু দাগ রেখে যা।’
বিজনবাবুর মনটা যেন কেমন হয়ে গেল। কেন এখানে এসেছেন— সে কথাও যেন বেমালুম ভুলে গেলেন। লোকটার দিকে মোহিত হয়ে তাকিয়ে আছেন। তার কথাগুলো যেন মনের একেবারে গভীরে প্রবেশ করছে। এই সব কথা যেন কত চেনা!
লোকটা আর বসল না। উঠে দাঁড়াল।
বিজনবাবু আপন ভোলা হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনি কে? আপনার নামটা যদি বলেন…’
লোকটা ডান হাতটা নাড়িয়ে বললেন, ‘আমি তো গদাধর। গদাধর চট্টোপাধ্যায়।’
বিজনবাবু বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন বিকেলের আগে।
সেদিন ঝড় উঠেছিল সন্ধের পরে।
Advertisement



