রনজিত দাস
৭৯তম সন্তোষ ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ান হওয়ার কৃতিত্ব দেখাল সার্ভিসেস। রবিবার আসামে ফাইনাল খেলার অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে অভিষেক পাওয়ারের গোলে তারা কেরালাকে হারিয়ে দিল সার্ভিসেস। এই জয়ের সুবাদে ৮বার সন্তোষ ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ান হলো। ফাইনাল রাউন্ডে চেনা ছন্দে না থাকলেও, শেষ ৪টে ম্যাচেই তারা জয়ের হাসি হাসলো।কেরালাকে ৮দিনের মধ্যে টুর্নামেন্টে দু’বার হারিয়ে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমান করে দিল। ম্যাচের সেরা অভিষেক পাওয়ার।পাঞ্জাবের হিমাংশু জাংরা ৯টা গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার পেলেন। ৭টা গোল করে অভিষেক পাওয়ার দ্ধিতীয় স্থান পান।
Advertisement
এদিন উভয়দল রক্ষনের উপর বেশি জোর দিয়ে তবেই আক্রমনে উঠে এসেছে। ফলে কোন দলই সহজেই অপরের রক্ষনভেদ করে গোলমুখ খুলতে পারেনি। টুর্নামেন্টে কেরালা ফেভারিট থেকেও ট্রফি জিততে পারলনা।পরপর দু’বছর ফাইনালে উঠেও ট্রফি অধরা থেকে গেল। গতবার তারা বাংলার কাছে হার স্বীকার করেছিল। অন্যদিকে সার্ভিসেস দল তিনবছরের মধ্যে দুবার ফাইনালে উঠে, দু’বারই চ্যাম্পিয়ান হলো।
গতবারের ফাইনালিষ্ট কেরালা দল এবার ফাইনাল রাউন্ড থেকে খেলেছে। প্রথম তিন ম্যাচেই তারা নকআউটে পৌঁছে যায়। তবে,ফাইনাল রাউন্ডের শেষ মাচেই তারা সার্ভিসেসের কাছে হেরে গিয়েছিল। এদিন ফাইনালেও সার্ভিসেসকে হারাতে কেরালা ব্যর্থ হলো।
Advertisement
সার্ভিসেস প্রাথমিক যোগ্যতা পর্বে গোয়া ও কর্ণাটকের মতন শক্তিশালী দলকে হারিয়ে ফাইনাল রাউন্ডে এসেছিল।কিন্তু ফাইনাল রাউন্ডের শুরুটা তাদের ভালো হয়নি। প্রথম তিনটে ম্যাচে তারা জয়ের মুখ দেখেনি। গোল করেও তারা রক্ষনের ভুলে এগিয়ে থাকতে পারেনি। গ্রুপের শেষ ম্যাচ থেকে ফাইনাল পর্যন্ত ৪ম্যাচে তারা অপরাজিত থেকে চ্যাম্পিয়ান হয়েছে। টুর্নামেন্টে মোট ১১টা ম্যাচ খেলে ৭টা জয় পেয়েছে। ৩টে ম্যাচ ড্র করে মাত্র ১টা ম্যাচে তারা হার মেনে নেয়।মোট ১৫টা গোল তারা করেছেন। অভিষেক পাওয়ারের ৭টি গোল ছাড়াও জাহির খাঁন,রোশন পান্না ও বিজয় জে দুটো করে গোল করেছেন। ওয়াংডেং তামাং ও জিজো জেরওয়ান একটি করে গোল পান। গোলে গগনদীপ সিং শেষ ৪টে ম্যাচে অসাধারন খেলেছেন। সার্ভিসেসের কোচ গোবিন্দরাজু দলের রক্ষনকে মজবুত করতে ছাবিন রব্বা,জিজো,সদানন্দ সিং ও লালমিনদের বিভিন্ন কৌশলে ব্যবহার করেছেন। ডেনি সিং ও ব্রিজেশ গিরি রক্ষনকে নির্ভরতা দেন। মাঝমাঠে বিজয় মারান্ডি ও স্যামুয়েল দলকে নেতৃত্ব দিয়ে সতীর্থদের সাহস দিয়েছেন।
সার্ভিসেস দল কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলা ও সেমিফাইনালে রেলওয়েজের মত শক্তিশালী দলকে হারিয়ে ফাইনালে খেলার ছাড়পত্র পায়। ফাইনালে অপর শক্তিশালী দল কেরালাকে হারিয়ে দিতেও সমর্থ হলো।
কেরালা দল ফাইনাল রাউন্ডে পাঞ্জাবকে হারিয়ে যাত্রা শুরু করে। পরের ম্যাচেই রেলওয়েজের কাছে আটকে গেলেও, পরবর্তী সময়ে ওড়িশা ও মেঘালয়কে তারা হারায়।কিন্তু ফাইনালে সার্ভিসেসের কাছ থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে নিতে পারল না কেরালা। কেরালা কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালে বড় ব্যবধানে আসাম ও পাঞ্জাবকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে আসে। কেরালা টুর্নামেন্টে ১৫টা গোল করেন।তাদের মহম্মদ আজজল ও মহম্মদ রিয়াজ যথাক্রমে ৫টি ও ৪টি গোল করেছেন। মাঝমাঠে অর্জুন ভি ও অর্জুন এমএম দলের চালিকাশক্তি ছিলেন।রক্ষনে মনোজ এম কেবল নেতৃত্ব নয়,প্রয়োজনে গোল করে দলে সাহায্য করেছেন বটে। তবে চূড়ান্ত দিনে রক্ষন অটূট রাখতে পারেনি। সার্ভিসেস ট্রফি জিতে বাজিমাত করে শিরোনামে উঠে এলো।
Advertisement



