রাজ্যে নতুন করে ‘যুবসাথী’ প্রকল্প চালু হলেও পুরনো ‘যুবশ্রী’ প্রকল্প বন্ধ হচ্ছে না— স্পষ্টভাবে সেই বার্তাই দিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। যুবসাথী ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই বিরোধীদের তরফে নানা ধরনের কটাক্ষ ও বিভ্রান্তিকর প্রচার শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী যুবসাথী প্রকল্পকে দৈনিক ৫০ টাকা করে ‘ভাতা’ বলে কটাক্ষ করেন। এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, ‘যে দেশের প্রধানমন্ত্রী বছরে দু’কোটি বেকারের চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে বছরে দুই লক্ষ মানুষেরও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেন না, উল্টে নবরত্ন সংস্থাগুলি বিক্রি করে দেন, তাঁদের মুখে বেকারদের নিয়ে এমন মন্তব্য মানায় না।’
Advertisement
অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, যুবশ্রী একধরনের বেকার ভাতা প্রকল্প, যা শ্রম দপ্তরের অধীনে পরিচালিত হয়। ইতিমধ্যে প্রায় ১২ লক্ষ যুবক-যুবতীকে সবমিলিয়ে ১৮০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা মেলে এই প্রকল্পে।
Advertisement
অন্যদিকে, যুবসাথী প্রকল্পের লক্ষ্য আলাদা বলে ব্যাখ্যা করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘মাধ্যমিক উত্তীর্ণ যুবক-যুবতীদের উৎসাহ দিতে মুখ্যমন্ত্রী এই বিশেষ প্রকল্প চালু করেছেন। পাঁচ বছর পর্যন্ত এই সহায়তা দেওয়া হবে। শিক্ষা সংক্রান্ত অন্য ভাতা—যেমন কন্যাশ্রী বা বিবেকানন্দ মেধা বৃত্তি পেলেও যুবসাথীর সুবিধা পাওয়া যাবে।’
বিজেপি বিধায়ক তথা অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ী কটাক্ষ করে বলেন, ‘১৫ বছর কিছু না করেই এখন ভোটের মুখে ভাতা বিলি করছে সরকার।’ এই মন্তব্যের জবাবে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য পাল্টা বলেন, ‘মা-মাটি-মানুষের সরকার যদি কিছু না করে, তা হলে বারবার কীভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরছে? ২০১১, ২০১৬, ২০২১— প্রতিবারই আসন সংখ্যা বেড়েছে। নিশ্চিন্ত থাকুন, এ বারও রেকর্ড ভাঙবে।’
তিনি আরও দাবি করেন, সামাজিক সুরক্ষা ও যুবকল্যাণমূলক প্রকল্পের জোরেই রাজ্য সরকার মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বে এই প্রকল্পগুলির ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলেও জানান তিনি।
Advertisement



