বাংলাদেশে বর্তমান অস্থিরতার আবহে শুক্রবার ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন। বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়া এই সংঘর্ষকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যদিও ঘটনার পরপরই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার স্পষ্টভাবে দাবি করেছে, সংঘর্ষ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনও রকম বলপ্রয়োগ করেনি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যেই শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি, যা পরে ব্যাপক সংঘর্ষে রূপ নেয়। ইট-পাটকেল ছোড়াছুড়ি ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে বহু মানুষ আহত হন। আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েকজনের আঘাত গুরুতর হলেও তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে।
Advertisement
সংঘর্ষের পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
Advertisement
এদিকে সংঘর্ষ নিয়ে ওঠা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সংযম দেখিয়েছে এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনেই কাজ করেছে। সরকার দাবি করেছে, বিক্ষোভকারীদের একাংশ নিষিদ্ধ এলাকা ভাঙার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি, সংঘর্ষের আগে দীর্ঘক্ষণ ধরে এলাকায় উত্তেজনা ছিল। তাঁদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ চলাকালীনই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে হস্তক্ষেপ শুরু হয়, যার জেরে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। যদিও এই দাবি মানতে নারাজ প্রশাসন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে একের পর এক বিক্ষোভ ও আন্দোলনের ফলে পরিস্থিতি ক্রমেই সংবেদনশীল হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে সংঘর্ষের ঘটনা অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং একইসঙ্গে নাগরিক অধিকার রক্ষা—এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সরকারের প্রধান পরীক্ষা বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সরকারের তরফে সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার আবেদন জানানো হয়েছে এবং গুজব বা বিভ্রান্তিকর খবর না ছড়ানোর অনুরোধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে জানানো হয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Advertisement



