পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুক্রবার নামাজের সময় এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে রক্তাক্ত হয়ে উঠল ইমামবার্গা চত্বর। দক্ষিণ-পূর্ব ইসলামাবাদের তারলাই কালান এলাকায় অবস্থিত ‘খাদিজা আল-কুবরা’ ইমামবার্গায় এই বিস্ফোরণে অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৬০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর। মৃত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শুক্রবারের জুম্মার নামাজ চলাকালীন আচমকাই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে যায়, আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু করেন নামাজে উপস্থিত মানুষজন। বিস্ফোরণের অভিঘাতে ইমামবার্গার একাংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চারদিকে পড়ে থাকতে দেখা যায় রক্তাক্ত দেহ ও আহতদের।
Advertisement
ইসলামাবাদ ক্যাপিটাল টেরিটরি পুলিশের মুখপাত্র তাকি জাওয়াদ জানান, বিস্ফোরণের প্রকৃতি নিয়ে এখনও নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে প্রাথমিকভাবে আত্মঘাতী হামলার দিকেই ইঙ্গিত মিলছে। তাঁর কথায়, ‘তদন্ত এখনও প্রাথমিক স্তরে রয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষার পরেই চূড়ান্তভাবে বলা যাবে এটি আত্মঘাতী বিস্ফোরণ কি না।’
Advertisement
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের একাংশ সূত্রের দাবি, হামলাকারী ইমামবার্গার প্রবেশপথে নিরাপত্তারক্ষীদের দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার পর নিজেকে বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেয়। কিছু প্রতিবেদনে হামলাকারীর সঙ্গে ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ জঙ্গি গোষ্ঠীর যোগসূত্র থাকার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও সরকারিভাবে এখনও তা নিশ্চিত করা হয়নি।
ঘটনার পর গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী। উদ্ধারকাজে নামানো হয় বিপুল সংখ্যক অ্যাম্বুল্যান্স ও জরুরি পরিষেবা। আহতদের দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বহু আহতের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এই বিস্ফোরণের জেরে ইসলামাবাদ জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে ধারাবাহিক জঙ্গি হামলার আবহে রাজধানীতে এই ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Advertisement



