• facebook
  • twitter
Friday, 30 January, 2026

শি-স্টার্মার দীর্ঘ বৈঠক, ‘খুবই বিপজ্জনক’ সতর্কবার্তা ট্রাম্পের 

তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরই ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়ে দেয়, এই সফর এবং তার লক্ষ্য সম্পর্কে আগেই ওয়াশিংটনকে জানানো হয়েছিল।

বেজিঙে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের সঙ্গে ৩ ঘণ্টা বৈঠক করেছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার। এই বৈঠককে ‘খুবই বিপজ্জনক’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের এই মন্তব্যে স্পষ্ট, চিনের সঙ্গে ব্রিটেনের এই বৈঠক সহজভাবে দেখছেন না তিনি। অসন্তুষ্ট ট্রাম্প ইতিমধ্যেই সতর্ক করে দিয়েছেন ব্রিটেনকে। 

তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরই ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়ে দেয়, এই সফর এবং তার লক্ষ্য সম্পর্কে আগেই ওয়াশিংটনকে জানানো হয়েছিল। একই সঙ্গে বলা হয়, আগামী এপ্রিলে স্বয়ং ট্রাম্পও চিন সফরে যেতে পারেন বলে খবর রয়েছে।

Advertisement

ব্রিটেনের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক বরাবরই বন্ধুত্বপূর্ণ। চিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতায় কি তবে সেই বন্ধুত্বে প্রভাব পড়তে চলেছে ? ব্রিটেন ও চিন ঘনিষ্ঠ হলে কী করবে আমেরিকা ? ট্রাম্প কিছু খোলসা করেননি। তবে তাঁর মন্তব্যকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে জল্পনা বেড়েছে তা বলাই বাহুল্য।

বৃহস্পতিবার জিনপিঙের সঙ্গে বৈঠক সেরে বেরিয়ে স্টার্মার জানান, চিনের সঙ্গে ব্রিটেনের আরও পরিশীলিত, ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হতে চলেছে। তারা পরস্পরের বাজারে আরও বেশি করে প্রবেশাধিকার পাবে। বাণিজ্যে শুল্ক কমবে উভয় তরফেই। তা ছাড়া, উভয় দেশে বিনিয়োগের বিষয়েও স্টার্মারের সঙ্গে জিনপিঙের আলোচনা হয়। এই বৈঠকের ফলে চিন-ব্রিটেন বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ব্রিটেন–চিন বিজনেস ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্টার্মার জানান, তাদের কাছে চিনকে দেওয়ার মতো অনেক কিছু রয়েছে।
 
স্টার্মারের এই সফরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাও করা হয়। ভিসা-মুক্ত যাতায়াত, হুইস্কির উপর শুল্ক হ্রাস, পাশাপাশি চিনে উৎপাদন কেন্দ্র গড়তে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ১০.৯ বিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ— সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন ঢেউ আসতে চলেছে। সংগঠিত অপরাধ ও অবৈধ অভিবাসন রুখতেও পারস্পরিক সহযোগিতার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
 
এ বিষয়ে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হলে ব্রিটেনকে সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘ওরা যদি এটা করে, তবে ওদের পক্ষে খুবই বিপজ্জনক হবে।’ কিসের বিপদ, কেন অবং কী হবে এবং আমেরিকাই বা কী করবে, সে সব বিশদে এখনই বলতে চাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আগামী এপ্রিল মাসে তাঁর চিন সফরে যাওয়ার কথা।

Advertisement

কিছু দিন আগে বেজিঙে গিয়েছিলেন আমেরিকার প্রতিবেশী দেশ কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নে। তার পরেই কানাডার উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। ব্রিটেনের বিরুদ্ধে তেমন কোনও পদক্ষেপ করা হতে পারে কি না, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।

চিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি করলে আমেরিকার সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে তা মানতে চাননি স্টার্মার। তিনি বলেছেন, ‘আমেরিকার সঙ্গে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, বাণিজ্য -সব ক্ষেত্রেই আমাদের ঘনিষ্ঠতম সম্পর্ক রয়েছে।’ আমেরিকা বা চিনের মধ্যে যে কোনও একটি দেশকে বেছে নিতে হবে বলে এমন মনে করেন না তিনি। আমেরিকার সতর্কবার্তার পর তিনি কী পদক্ষেপ করেন, তা অবশ্য সময়ই বলবে।

 

এদিকে এই বৈঠককে ঘিরে ব্রিটেনের অন্দরেও সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী কনজারভেটিভ দলের শ্যাডো হোম সেক্রেটারি ক্রিস ফিলিপ বলেছেন, ‘স্টার্মার জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে আপস করে চিনের টেবল থেকে অর্থনৈতিক টুকরো কুড়োচ্ছেন।’ 

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার ছিল আমেরিকা। ওই তালিকায় চিন ছিল চতুর্থ স্থানে। এরই মধ্যে ব্রিটেন-চিন সম্পর্কের এই নতুন অধ্যায় কী প্রভাব ফেলবে সেদিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল। 

Advertisement