• facebook
  • twitter
Wednesday, 28 January, 2026

কেন্দ্রীয় অবজার্ভার তালিকা ঘিরে জল্পনা, পশ্চিমবঙ্গ থেকে ২৫ আধিকারিকের নাম প্রকাশ

আসন্ন ভোটের আগে কেন্দ্রীয় অবজার্ভার তালিকা ঘিরে জল্পনা

প্রতীকী চিত্র

অসম, কেরল, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরিতে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় অবজার্ভার নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। প্রকাশিত তালিকায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে মোট ২৫ জন সিনিয়র আধিকারিকের নাম রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৫ জন আইএএস এবং ১০ জন আইপিএস আধিকারিক। এই তালিকায় হাওড়া ও আসানসোলের পুলিশ কমিশনারদের নামও অন্তর্ভুক্ত থাকায় প্রশাসনিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি নিয়ে বাড়তি কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

তবে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি চর্চা তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মীনাকে ঘিরে। যে রাজ্যগুলিতে নির্বাচন হতে চলেছে, সেই প্রক্রিয়ার জন্য কেন্দ্রীয় অবজার্ভার হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্রসচিবের নাম তালিকাভুক্ত হওয়ায় নানা প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। যদিও নির্বাচন কমিশন এখনও স্পষ্টভাবে জানায়নি, জগদীশ প্রসাদ মীনাকে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অবজার্ভারের দায়িত্ব দেওয়া হবে, না কি তাঁকে অন্য কোনও রাজ্যে পাঠানো হবে। প্রশাসনিক মহলের অভিমত, সাধারণত কোনও আধিকারিককে নিজের রাজ্যে কেন্দ্রীয় অবজার্ভার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় না। ফলে এই বিষয়টি ঘিরে আপাতত ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।

Advertisement

এই তালিকা প্রকাশের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যাও সামনে এসেছে। কমিশনের দাবি অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় অবজার্ভার নিয়োগের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে অন্তত পাঁচবার আধিকারিকদের নামের তালিকা চাওয়া হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে কোনও উত্তর না মেলায় কমিশন নিজেই অবজার্ভারদের তালিকা চূড়ান্ত করে তা প্রকাশ করেছে। কমিশনের বক্তব্য, নির্বাচনী প্রস্তুতির সময়সূচি মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Advertisement

তালিকা প্রকাশের পাশাপাশি কমিশনের তরফে একটি বিস্তারিত নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, ব্যাচভিত্তিক তালিকাভুক্ত সমস্ত আইএএস ও আইপিএস আধিকারিকদের জন্য বাধ্যতামূলক ব্রিফিং বৈঠক আয়োজন করা হয়েছে। নির্ধারিত দিন, সময় ও স্থানে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনও আধিকারিক যদি ব্রিফিং বৈঠকে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকেন, তা নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে। এমন ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।

এই নির্দেশ কার্যকর করতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নোটিস সার্ভ করার কথাও বলা হয়েছে। ই-মেল, সরাসরি যোগাযোগ অথবা অন্যান্য উপলব্ধ মাধ্যমে নোটিস পৌঁছে দিতে হবে এবং তা অবশ্যই সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের স্বীকৃতিসহ গ্রহণ করাতে হবে। নোটিস সার্ভের পর প্রত্যেক আধিকারিকের কাছ থেকে পাওয়া স্বীকৃতিপত্র সংযুক্ত করে একটি লিখিত নিশ্চিতকরণ রিপোর্ট কমিশনের কাছে ই-মেলের মাধ্যমে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কমিশন গোটা বিষয়টি পর্যালোচনা করতে পারে।

প্রসঙ্গত, এই ব্রিফিং বৈঠকের জন্য ব্যাচভিত্তিক মিনিট-টু-মিনিট কর্মসূচি ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত করা হয়েছে। অ্যানেক্সার–১, ২ ও ৩-এ সংযুক্ত সেই কর্মসূচির বিস্তারিত সমস্ত সংশ্লিষ্ট আইএএস ও আইপিএস আধিকারিকদের জানিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এসআইআর প্রক্রিয়া ও আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে যে টানাপড়েনের আবহ তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই এই কেন্দ্রীয় অবজার্ভার তালিকা প্রকাশ প্রশাসনিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকের মতে, এই তালিকা শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং ভবিষ্যতের নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্পর্কের সমীকরণকেও নতুনভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

Advertisement