রাজ্যের নিজস্ব ডেটা সেন্টারকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই গবেষণার কাজে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে বেসরকারি সংস্থাগুলির জন্য নতুন প্রস্তাব আনতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স দপ্তরের সচিব শুভাঞ্জন দাস জানান, অদূর ভবিষ্যতে বেসরকারি প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে রাজ্যের ডেটা সেন্টার ব্যবহার করে এআই মডেল তৈরি ও প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে। সম্প্রতি কলকাতায় বণিকসভা অ্যাসোচাম আয়োজিত দশম টেকমিট অনুষ্ঠানে এই পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেন তিনি। শুভাঞ্জন দাস জানান, শিলিগুড়িতে অবস্থিত রাজ্যের ডেটা সেন্টারে অত্যন্ত উন্নত মানের কম্পিউটেশনাল ক্ষমতা রয়েছে। ভবিষ্যতে এই পরিকাঠামোকে এআই-ভিত্তিক গবেষণা ও উদ্ভাবনের কাজে আরও বেশি করে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার।
তিনি বলেন, রাজ্য সরকার নতুন ধারণা এবং অংশীদারিত্বের বিষয়ে সবসময় প্রস্তুত। কোনও বেসরকারি সংস্থা বা প্রযুক্তি কোম্পানি যদি এআই সংক্রান্ত কাজের জন্য রাজ্যের ডেটা সেন্টার ব্যবহার করতে আগ্রহী হয়, তবে সরকার সেই সুযোগ করে দেবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, সফ্টওয়্যার টেকনোলজি পার্কস অফ ইন্ডিয়া (এসটিপিআই) রাজ্যে নিজস্ব একটি ডেটা সেন্টার গড়ে তুলছে, যেখানে চলতি বছরের মধ্যেই কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে ডেটা স্টোরেজ, ক্লাউড পরিষেবা এবং এআই গবেষণার ক্ষেত্রে রাজ্যে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অনুষ্ঠানে রাজ্যের বহুল আলোচিত ‘বেঙ্গল সিলিকন ভ্যালি’ প্রকল্প নিয়েও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন তথ্যপ্রযুক্তি সচিব। প্রায় ২৫০ একর জমির উপর গড়ে ওঠা এই প্রযুক্তি হাবে প্রায় ৭,৫০০ মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি, এই প্রকল্পে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। শুভাঞ্জন দাস জানান, ইতিমধ্যেই ৪১টি সংস্থা এই প্রকল্পে জমি নিয়েছে এবং বিভিন্ন সংস্থার কাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। রাজ্যে শিল্প ও ব্যবসার পরিবেশ আরও অনুকূল করতে সরকার সব ধরনের সাহায্য করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। অনুষ্ঠানে ক্রেডাই ওয়েস্ট বেঙ্গল-এর প্রেসিডেন্ট সুশীল মোহতা বলেন, গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার তৈরির ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ ক্রমশ একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে উঠে আসছে।
উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা, দক্ষ মানবসম্পদ এবং উন্নয়নশীল পরিকাঠামো রাজ্যের এই অগ্রগতিকে আরও ত্বরান্বিত করছে বলে তিনি জানান। শুভঞ্জন দাস আরও জানান, তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের বিস্তার এখন আর শুধুমাত্র কলকাতাকেন্দ্রিক নয়। শিলিগুড়ি ও দুর্গাপুরের মতো শহরেও প্রযুক্তি পরিকাঠামো দ্রুত গড়ে উঠছে। বর্তমানে রাজ্যে ৩২টি সরকারি আইটি পার্ক এবং ৬০টির বেশি বেসরকারি আইটি পার্ক রয়েছে । সেখানে ২৮০০–র বেশি আইটি ও আইটিইএস সংস্থা কাজ করছে। সেখানে ২ লক্ষেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
Advertisement