রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর শিলিগুড়ি সফরকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকার ও রাষ্ট্রপতি ভবনের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ছাড়াও বিজেপির অনেক নেতাই তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। প্রোটোকল ভঙ্গের অভিযোগে কেন্দ্র তৃণমূলকে নিশানা করলেও, রাজ্যের তরফে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া আগুনে ঘি ঢালার মতো প্রভাব ফেলেছে।
বিতর্কের জবাব দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধরনামঞ্চ থেকে এক পুরনো ছবি প্রকাশ করেন। ছবিতে দেখা যায়, বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণীর পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন রাষ্ট্রপতি মুর্মু, আর চেয়ারে বসে আছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। মমতা প্রশ্ন তোলেন, ‘দেখুন ছবিটা। রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে আছেন, প্রধানমন্ত্রী বসে আছেন। কে কাকে অপমান করছে?’ এই ছবিকে তিনি প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন যে রাজ্য সরকার কখনও রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান করে না।
Advertisement
ধর্মতলার ধরনামঞ্চে মমতার সঙ্গে ওই ছবি দেখাচ্ছেন বীরবাহা হাঁসদা ও জুন মালিয়া। একই ছবি মথুরাপুরের জনসভায় দেখাচ্ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, ‘ রাষ্ট্রপতিকে তৃণমূল সরকার অপমান করেছে। কিন্তু ছবিটা দেখুন—রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে, প্রধানমন্ত্রী চেয়ারে। এই অবস্থায় আসল অপমান হচ্ছে বাংলার মানুষের প্রতি।‘
Advertisement
ঘটনার মূল প্রেক্ষাপট হল শনিবার শিলিগুড়িতে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর আগমন। তাকে স্বাগত জানাতে যান শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য কোনও মন্ত্রী উপস্থিত না হওয়ায় প্রোটোকল ভঙ্গের অভিযোগ ওঠে। এই বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নেয় এবং প্রধানমন্ত্রী দুইবার সরাসরি তৃণমূলকে আক্রমণ করেন।
মমতার মতে, রাজ্য সরকার কখনও রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান করে না। যে কেউ যখন আসে, সবসময় দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান হয়। এই ছবি দেখিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, কেন্দ্রের অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ঘটনা রাজ্যের রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে, নির্বাচনের আগে তৃণমূলকে শক্ত অবস্থানে রাখার চেষ্টা করছে।
Advertisement



