চলতি বছর বাংলার বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে চর্চা এখন সর্বত্র। এতদিন রাজ্যে বেশি দফায় ভোট করানোই ছিল রেওয়াজ। কিন্তু এবার সেই ছবিই বদলাতে পারে। আশ্চর্যজনকভাবে ভোটের দফা কমানো নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপির ভাবনা প্রায় একই সুরে মিলছে।
একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের তৎকালীন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায় বারবার দাবি করেছিলেন, বাংলায় যত বেশি দফায় ভোট হবে ততই ভালো। ২০১১ সালের ‘পরিবর্তন’-এর নির্বাচনেও তাঁর দাবি ছিল ৭ দফায় ভোট। যদিও শেষ পর্যন্ত ভোট হয়েছিল ৬ দফায়। পরবর্তী দু’টি বিধানসভা নির্বাচনেও বিরোধীরা ও কমিশন সেই ধারাই বজায় রেখেছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে সেই সমীকরণ বদলাতে পারে।
Advertisement
রাজ্য বিজেপি সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চাইছে বাংলায় বিহারের মতো কম দফায় ভোট হোক। বিহারে এক সময় বেশি দফায় ভোট হলেও ২০২০ সালে তা ৩ দফায় এবং ২০২৫ সালে মাত্র দু’দফায় নেমে আসে। বিজেপির যুক্তি, বেশি দফা ভোট মানেই শাসক দলের সাংগঠনিক সুবিধা। এক এলাকায় ভোট শেষ হলে সেখানকার ক্যাডার অন্যত্র কাজে লাগানো যায়। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে কর্মীদের সক্রিয় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
Advertisement
এই মতের সঙ্গে পুরোপুরি ভিন্ন পথে হাঁটছে না রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দপ্তরও। তাঁদের একাংশের মতে, ৭ বা ৮ দফায় ভোট করানো অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা। বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দীর্ঘ সময় ধরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়, তবু বুথ দখল বা ছাপ্পা রোখা যায় না। তাই দু’থেকে তিন দফাতেই ভোট করানো যুক্তিসঙ্গত।
২০২১ সালে ৮ দফায় ভোট নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছিল তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখন বলেছিলেন, এটি বিজেপির রাজনৈতিক কৌশল। এবার দফা কমানোর আলোচনা চললেও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য নিয়ে সতর্ক তৃণমূল। কমিশন যা সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই মেনে নেওয়া ছাড়া তাঁদের বিশেষ কিছু করার নেই।
ভোটের নির্ঘণ্ট নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সাধারণত ফেব্রুয়ারির শেষ বা মার্চের শুরুতে নির্বাচন ঘোষণা হয়। তবে এসআইআর প্রক্রিয়ায় জটিলতার কারণে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ পিছতে পারে। সে ক্ষেত্রে এপ্রিলের শুরুতে ভোট শুরু হয়ে, কম দফা হলে এপ্রিলের মধ্যেই ফল ঘোষণার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
Advertisement



