• facebook
  • twitter
Friday, 6 March, 2026

নাগরিকত্ব দেওয়ার নামে রাজনৈতিক খেলা বিজেপির

বড়মার তিরোধান দিবসে মমতা

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

সম্প্রতি দেশের নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে। সেই তালিকা ঘিরেই রাজ্যে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রায় ৬৩ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগণা ও নদিয়া-সহ একাধিক জেলায় বহু মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের নাম বাদ পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। আবার অনেকের নাম ‘বিচারাধীন’ পর্যায়ে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে মতুয়া সমাজের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অনেকের মধ্যেই নাগরিকত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে মতুয়া সমাজের পাশে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রের চক্রান্তেই মতুয়া ভাই-বোনদের এক অস্থির ও বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নাগরিকত্ব দেওয়ার নামে রাজনৈতিক খেলা চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Advertisement

বৃহস্পতিবার মতুয়া সমাজের বড়মা বীণাপাণি দেবীর তিরোধান দিবস উপলক্ষে সমাজমাধ্যমে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি লেখেন, শ্রীশ্রীহরিচাঁদ ঠাকুর ও শ্রীশ্রীগুরুচাঁদ ঠাকুরের দেখানো পথে গড়ে ওঠা মতুয়া মহাসঙ্ঘ বাংলার সামাজিক সংস্কার ও নবজাগরণের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দলিত ও অবহেলিত মানুষের অধিকার রক্ষা, শিক্ষার প্রসার এবং জাতপাতহীন মানবিক সমাজ গড়ার আন্দোলনে বড়মা সারাজীবন কাজ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিন বড়মার সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বড়মার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল আত্মিক ও পারিবারিক। বড়মার মাতৃস্নেহ তিনি কাছ থেকে পেয়েছেন বলেও স্মৃতিচারণ করেন তিনি। চিকিৎসা বা অন্য প্রয়োজনে বড়মা ডাকলেই তিনি ছুটে যেতেন বলেও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি জানান, রাজ্য সরকার বড়মার অসামান্য সামাজিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করেছিল।

Advertisement

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন মতুয়া সমাজের উন্নয়নে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। মতুয়া বিকাশ পর্ষদ ও নমঃশূদ্র বিকাশ পর্ষদ গঠন, ঠাকুরনগরে হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, কৃষ্ণনগরে তার সম্প্রসারিত শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলা, গাইঘাটায় পি আর ঠাকুর সরকারি মহাবিদ্যালয় নির্মাণ-সহ একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথা তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ঠাকুরনগরের উন্নয়ন, পানীয় জল প্রকল্প, সেতু নির্মাণ এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সবশেষে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পিতভাবে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। যাঁরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম এদেশের নাগরিক এবং যাঁদের ভোটেই সরকার গঠিত হয়, তাঁদেরই আবার নতুন করে নাগরিকত্বের নামে অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করানো হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মতুয়া সমাজ-সহ বাংলার মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার যে চেষ্টা চলছে, তার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

Advertisement