এবারের ৭৯ তম সন্তোষ ট্রফি ফুটবল প্রতিযোগিতার আসর বসতে চলেছে আসামে। গতবারের চাম্পিয়ন দল বাংলা ২১ জানুয়ারি প্রথম ম্যাচেই নাগাল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। মঙ্গলবার সন্তোষ ট্রফির জন্য খেলোয়াড়দের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তবে, আগে জানানো হয়েছিল বাংলা দলে ২০ জন খেলোয়াড় জায়গা পাবে। কিন্তু, আইএফএ’র পক্ষ এদিন ২২ জনের দল ঘোষণা করা হয়েছে। তবে, এই দলে সেই অর্থে কোনও নতুন মুখ নেই।
গতবারের চ্যাম্পিয়ন দল থেকে জায়গা পেলেন মাত্র ছ’জন। আসলে, কোচ সঞ্জয় সেন যেন সাহস দেখতে পারলেন না। এই ২২ জনের দলের মধ্যে উদীয়মান সুবল টুডুকে জায়গা দিতে পারলেন না তিনি। নির্ভর করলেন কলকাতার তিনপ্রধানের খেলোয়াড়দের ওপরেই। পাশাপাশি, প্রিমিয়ার ডিভিশনের ছাড়া অন্য দল থেকে ফুটবলারদের মনোনীত করাই হল না। হয়তো কোচ ভেবেছেন গতবারের খেতাব জয়ী বাংলা দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের নিয়েই লড়াই করা ঠিক হবে। ফলে প্রশ্ন উঠছে সন্তোষ ট্রফিতে যদি বাংলার তরুণ মুখদের না দেখা যায়, তাহলে জেলা বা অন্য ডিভিশনের খেলোয়াড়দের প্রতি কি অবিচার করা হলো না?
Advertisement
ইস্টবেঙ্গল দল থেকে আটজন খেলোয়াড় এই দলে জায়গা পেয়েছেন। এরা হলেন গোলরক্ষক গৌরব শা, ডিফেন্ডার চাকু মান্ডি, সুমন দে, বিক্রম প্রধান, মাঝমাঠের তন্ময় দাস, শ্যামল বেসরা, বিজয় মুর্মু এবং সায়ন ব্যানার্জি। মোহনবাগান থেকে বাংলা দলে সুযোগ পেলেন আক্রমণভাগের খেলোয়াড় করণ রাই ও ডিফেন্ডার মার্শাল কিস্কু। ডায়মন্ড হারবার থেকে এলেন মিডফিল্ডার আকাশ হেমব্রম, আকিব নওয়াজ, উত্তম হাঁসদা ও নরহরি শ্রেষ্ঠা। মহমেডান থেকে এই দলে সুযোগ পেয়েছেন ডিফেন্ডার জুয়েল আহমেদ মজুমদার। গতবার তিনি বাংলার হয়ে খেললেও কলকাতা ময়দানে একটি ম্যাচেও খেলেননি তিনি।
Advertisement
ইউনাইটেড স্পোর্টস থেকে জায়গা পেয়েছেন মাঝমাঠের খেলোয়াড় বিকি থাপা এবং প্রশান্ত দাস। ভবানীপুর থেকে এলেন ডিফেন্ডার সুজিত সাঁধু। কাস্টমস থেকে বাংলা দলে জায়গা করে নিয়েছেন রবি হাঁসদা ও ফরোয়ার্ড সুময় সোম এবং শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব থেকে জায়গা পেয়েছেন গোলরক্ষক সোমনাথ দত্ত। এই প্রসঙ্গে বলা যায়, কলকাতা লিগে নজরকাড়া কাস্টমসের দুই খেলোয়াড় রুদ্র সামন্ত ও বাতাস টুডু’কেও বাংলা দলে জায়গা দেওয়া গেল না।
অবশ্যই, বাংলার ফুটবলপ্রেমীরা চাইবে দল খেতাব ধরে রাখুক। কিন্তু, পাশাপাশি তারাও দেখতে চান ক’জন উদীয়মান ফুটবলাররা জায়গা পেলেন এবারের বাংলা দলে। প্রায় একমাস ধরে জেলা এবং অন্যান্য ডিভিশনের খেলোয়াড়দের নিয়ে কোচ সঞ্জয় সেন অনুশীলন করালেন। অথচ, তাদের মধ্যে থেকে কাউকেই খুঁজে পাওয়া গেল না বাংলা দলে জায়গা দেওয়ার জন্য। তাহলে কোচ যে প্রায় বলতেন তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়া হবে, বাস্তবে কিন্তু তা দেখতে পাওয়া গেল না। তাহলে কি কোনও চাপের কাছে নতি স্বীকার করলেন তিনি!
স্বাভাবিকভাবেই এই প্রশ্ন উঠতে পারে। এরপরেও কি বলা যাবে বাংলায় কোনও প্রতিভাবান ফুটবলার নেই। অতীতে প্রতিবছর সন্তোষ ট্রফিতে সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের খুঁজে পাওয়া যেত, তাহলে এখন কি সেই ভাবনায় খরা নেমে এসেছে?
Advertisement



