• facebook
  • twitter
Tuesday, 13 January, 2026

পাকিস্তান আর একটা ভুল করলেই স্থল অভিযান চালানো হত: সেনাপ্রধান

উপেন্দ্র দ্বিবেদী স্পষ্ট করে দেন, সংঘর্ষবিরতি ঘোষণা করা হলেও পশ্চিম সীমান্ত এবং জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতি এখনও সংবেদনশীল।

ভারতের স্থল সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী।

 

সিঁদুর অভিযান নিয়ে ফের মুখ খুললেন ভারতের স্থল সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী। তিনি ফের পাকিস্তানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সেনা অভিযান এখনও শেষ হয়নি। মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট করে জানান, সিঁদুর অভিযানের সময় ভারতীয় সেনা শুধু আকাশপথ বা নির্দিষ্ট অভিযানে সীমাবদ্ধ ছিল না, প্রয়োজনে পাকিস্তানের ভিতরে স্থল অভিযান চালানোর জন্যও সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল। তাঁর কথায়, পাকিস্তান যদি সামান্য ভুলচুকও করত, তবে তার বড় মাসুল দিতে হত।

Advertisement

সেনাপ্রধান জানান, সিঁদুর অভিযানের ক্ষেত্রে তিন বাহিনীকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল। কী ভাবে অভিযান পরিচালিত হবে, কোথায় এবং কখন আঘাত হানা হবে, সেই সমস্ত সিদ্ধান্ত বাহিনীগুলির উপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলেই এবারের অভিযান ছিল অনেক বেশি সুনির্দিষ্ট, আক্রমণাত্মক এবং কার্যকর। জম্মু-কাশ্মীরে পাকিস্তানের গোলাগুলির জবাবে ভারতীয় সেনার প্রতিক্রিয়া ছিল আগের যে কোনও সময়ের তুলনায় অনেক বেশি তীব্র ও লক্ষ্যভেদী বলেও দাবি করেন তিনি। উপেন্দ্র দ্বিবেদী স্পষ্ট করে দেন, সংঘর্ষবিরতি ঘোষণা করা হলেও পশ্চিম সীমান্ত এবং জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতি এখনও সংবেদনশীল।

Advertisement

তবে তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। সেনাপ্রধানের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এখনও পর্যন্ত ৩১ জন জঙ্গিকে নিকেশ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশই পাকিস্তান বংশোদ্ভূত। এই জঙ্গিদের মধ্যে তিন জন ছিল পহেলগাঁও হামলার অন্যতম চক্রী। ‘মহাদেব অভিযান’ চালিয়ে তাদের নিকেশ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় জঙ্গিদের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে জানান সেনাপ্রধান। তাঁর দাবি, জম্মু-কাশ্মীরে জঙ্গিদলে নিয়োগের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ সালে মাত্র দু’জন জঙ্গিদলে যোগ দিয়েছিল। এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট, উপত্যকায় কতটা কঠোরভাবে জঙ্গিদমন চালানো হচ্ছে।

পাকিস্তানকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেন, সীমান্তের ওপারে থাকা জঙ্গিশিবিরগুলির উপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। এখনও মোট আটটি জঙ্গিশিবির সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে দু’টি আন্তর্জাতিক সীমান্তের ওপারে এবং ছ’টি নিয়ন্ত্রণরেখার কাছাকাছি এলাকায়। সেনার বিশ্বাস, ওই শিবিরগুলিতে এখনও জঙ্গিপ্রশিক্ষণ চলছে। কোনও রকম অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হলেই উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে বলেও তিনি স্পষ্ট করে দেন।

Advertisement