প্রথমবার রঞ্জি ট্রফি জয়ের স্বপ্নে একেবারে দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছে জম্মু-কাশ্মীর। এই প্রথম জম্মু-কাশ্মীর ফাইনাল খেলার ছাড়পত্র আদায় করে নিল এবং বেশ কয়েকবারে চ্যাম্পিয়ন দল কর্ণাটককে যেভাবে চাপের মধ্যে ফেলে দিয়েছে, তা অবিশ্বাস্য। তৃতীয় দিনের শেষে জম্মু-কাশ্মীরের ৫৮৪ রানের জবাবে কর্ণাটক দিনের শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ২২০ রান করেছে। অর্থাৎ কর্মাটক পিছিয়ে রয়েছে ৩৬৪ রানে। কর্ণাটকের পক্ষে প্রথম ইনিংসে গিয়ে থাকা বেশ কঠিন। হাতে রয়েছে মাত্র দু’দিন সময়। এই দু’দিনের মধ্যে খেলার ফলাফল অবশ্যই নির্ধারণ হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে সুবিধাজনক জায়গায় রয়েছে জম্মু-কাশ্মীর। প্রথম ইনিংসে গিয়ে থাকার অঙ্কে জম্মু-কাশ্মীর প্রতিপক্ষ দলকে পিছনে ফেলে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে তারা ইতিহাস গড়বে প্রথমবার রঞ্জি ট্রফি চ্যাম্পিয়ন হয়ে।
তৃতীয় দিনে জম্মু-কাশ্মীর ৬ উইকেটে ৫২৭ রান নিয়ে খেলতে নামে। ৫৭ রান করে জম্মু-কাশ্মীর তাদের ইনিংস শেষ করে। সাহিল লোতরা ৭২ রানে আউট হন। তবে দু বোলার আবিদ মুস্তাক যুদ্ধবীর সিং বেশ ভালো খেলেছেন। আবিদ ২৮ রানে যুদ্ধবীর ৩০ রানে আউট হন। এই দু ব্যাটসম্যান ৫৫০ রান পার করে দেন। শেষ পর্যন্ত প্রথম ইনিংসে জম্মু-কাশ্মীরের স্কোরবোর্ডে ৫৮৪ রান দেখতে পাওয়া যায়। ভারতীয় দলের বোলার প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ কর্ণাটকের হয়ে পাঁচটি উইকেট নেন ৯৮ রান দিয়ে।
Advertisement
জম্মু-কাশ্মীরের পাহাড়প্রমাণ রান দেখে মনে করা হয়েছিল, কর্ণাটকও শক্তিশালী ব্যাটিং আক্রমণ করে নজর কাড়বে। কিন্তু জম্মু-কাশ্মীরের দুরন্ত বোলা আকিব নবি যেভাবে আঘাত হানলেন, তাতে ওই ভাবনা সার্থক রূপ পেল না। লোকেশ রাহুলের মতো ক্রিকেটারকে ১৩ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান আকিব নবি। লোকেশ রাহুলের সঙ্গে ওপেন করতে এসেছিলেন মায়াঙ্ক আগরওয়াল। তিনি দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। মায়াঙ্ক ১৩০ রানে অপরাজিত রয়েছেন। তাঁর ব্যাট থেকে এখন পর্যন্ত ১৭টি বাউন্ডারি এসেছে। কর্ণাটকের অধিনায়ক দেবেদত্ত পাড়িক্কল বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারেননি।
Advertisement
তিনি সুনীল কুমারের বলে ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছেড়ে চলে যান। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ১১ রান। ভারতের অপর খেলোয়াড় করুণ নায়ারের ব্যাট থেকে কোন রান আসেনি কর্ণাটকের স্কোরবোর্ডে। গত ম্যাচে দুই ইনিংসেই কর্ণাটকের হয়ে তিনি শতরান করেছিলেন। একা মায়াঙ্ক আগরওয়াল কর্ণাটকের হয়ে লড়ে যাচ্ছেন। তবে তাঁর সঙ্গে কিছুটা সঙ্গ দিয়েছেন শ্রেয়স গোপাল। তিনি ২৭ রানে আউট হয়ে যান। তবে মায়াঙ্ক আগরওয়ালকে আকিব নবিরা সেইভাবে সমস্যায় ফেলতে পারেননি। উইকেট রক্ষক ক্রুথিক কৃষ্ণ ২৭ রান করে উইকেটে রয়েছেন।
দিনের শেষে ৩৬৪ রানে পিছিয়ে রয়েছে কর্ণাটক। সেই কারণে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে কর্ণাটক জম্মু-কাশ্মীরের ইনিংসকে টপকে যেতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তবে ক্রিকেট সবসময়ই অনিশ্চয়তার খেলা। সে কারণেই লড়াইটা থাকবে দুই দলের কাছে।
Advertisement



