• facebook
  • twitter
Sunday, 11 January, 2026

বাংলাদেশে হিন্দু হত্যা ও সংখ্যালঘুদের উপর হিংসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ ইউনূস সরকারের প্রেস সচিবের

প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানালেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম

ছবি: এএনআই

বাংলাদেশে হিন্দু হত্যা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের উপর লাগাতার হিংসার ঘটনায় প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানালেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম। সম্প্রতি বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন সংখ্যালঘুদের উপর হামলা ও নির্যাতনের একাধিক ঘটনা তুলে ধরার পর এই বিষয়ে মুখ খুললেন তিনি।

ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে শফিকুল আলম লেখেন, ‘বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এবং অন্যান্য এনজিও ও অধিকারকর্মী সংগঠনগুলোর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ, যারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে প্রভাবিত করা সহিংসতার ঘটনাগুলি জনদৃষ্টিতে এনেছেন।’ তিনি আরও জানান, অন্যান্য অনেক বাংলাদেশির মতো তিনিও দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

Advertisement

প্রেস সচিবের কথায়, এই ধরনের ঘটনার ফলে যে ভয় ও মানসিক আঘাত তৈরি হয়, তা বিশেষ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে গভীর প্রভাব ফেলে। তিনি বলেন, ‘হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও মুসলিম—সব সম্প্রদায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমার কাছে ব্যক্তিগত দায়িত্বের বিষয়।’ তাঁর দাবি, প্রতিটি রিপোর্ট হওয়া ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করছে এবং আইন যাতে ন্যায্যভাবে প্রয়োগ হয়, তা দেখছে।

Advertisement

এই মন্তব্যের মধ্যেই বাংলাদেশের ৩২ জন বিশিষ্ট নাগরিক একটি বিবৃতি দিয়ে দাবি করেছেন, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তাঁরা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা শফিকুল আলমের পোস্টটি সমাজমধ্যমে শেয়ার করছেন। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব অবশেষে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার বিষয়ে মুখ খুলেছেন।

তবে একই সঙ্গে শফিকুল আলম সতর্ক করে লিখেছেন, সংখ্যালঘু নাগরিকদের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি অপরাধকেই ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক নয়। তাঁর মতে, সব ঘটনাকে একভাবে দেখলে প্রকৃত ঘৃণাজনিত অপরাধ—যেমন দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ড—সেগুলির গুরুত্ব কমে যেতে পারে। তিনি আরও দাবি করেন, হাসিনা সরকারের পতনের পর তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার সুযোগে অপরাধীচক্র ও স্থানীয় বিরোধ মাথাচাড়া দিয়েছে, যার প্রভাব সব সম্প্রদায়ের মানুষের উপরই পড়ছে। শেষে তিনি রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় নেতা, কমিউনিটি সংগঠন ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভয় ছড়ানো বা উত্তেজনা কাজে লাগানোর যে কোনও প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করুন।

Advertisement