• facebook
  • twitter
Sunday, 11 January, 2026

‘সুরক্ষার’ যুক্তিতে গ্রিনল্যান্ড দখলের সুর ট্রাম্পের

রাশিয়া–চিন আতঙ্কে কূটনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

গ্রিনল্যান্ডকে ‘সুরক্ষিত’ রাখার যুক্তিতে সেই ভূখণ্ড দখলের ভাবনায় ফের সরব হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর আশঙ্কা, আমেরিকা এগিয়ে না এলে রাশিয়া ও চিন গ্রিনল্যান্ডে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। শুক্রবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে এই বক্তব্য রেখে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে আলোড়ন তুলেছেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের দাবি, কোনও দেশের ক্ষেত্রে ‘মালিকানা’ই নিরাপত্তার একমাত্র ভরসা, ইজারা দিয়ে ভূখণ্ড রক্ষা করা যায় না। তাঁর কথায়, গ্রিনল্যান্ডকে সুরক্ষিত রাখতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকেই সরাসরি দায়িত্ব নিতে হবে। কাজটি কঠিন হলেও তা করে দেখানোর সংকল্পের কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি অভিযোগ করেন, গ্রিনল্যান্ড ঘিরে রাশিয়া ও চিনের নৌতৎপরতা বাড়ছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই দাবির সপক্ষে নির্দিষ্ট কোনও প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেননি। ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, চিন বা রাশিয়ার নাগরিকদের তিনি গ্রিনল্যান্ডে ‘প্রতিবেশী’ হিসেবে দেখতে চান না এবং এই বিষয়ে ন্যাটোকেও বাস্তবতা বুঝতে হবে।

Advertisement

এই মন্তব্যের পরই ন্যাটোভুক্ত একাধিক দেশ, বিশেষত কানাডা ও ইউরোপের প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলি জানিয়ে দিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের। সেই বার্তাকে কার্যত উপেক্ষা করেই ট্রাম্প ন্যাটোর উদ্দেশে কড়া অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বলে কূটনৈতিক মহলের দাবি।

Advertisement

এদিকে ইজারা প্রসঙ্গেও আপসহীন অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর মতে, নয় বছর বা একশো বছরের কোনও ইজারাই গ্রহণযোগ্য নয়। এর মধ্যেই গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমাংশে মার্কিন সেনা মোতায়েনের তথ্য সামনে এসেছে। ডেনমার্কের সঙ্গে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র সেখানে প্রয়োজন মতো সেনা রাখতে পারে বলেই দাবি ওয়াশিংটনের। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, রাশিয়া ও চিনের হুমকির কথা তুলে ধরে ট্রাম্প আসলে নিজের প্রস্তাবিত অবস্থানকেই জোরালো করতে চাইছেন।

অন্যদিকে, গ্রিনল্যান্ডের অভিভাবক রাষ্ট্র ডেনমার্ক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির কোনও প্রশ্নই ওঠে না। এই অবস্থানে অনড় কোপেনহেগেন।

হোয়াইট হাউস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের জনসংখ্যা প্রায় ৫৭ হাজার। তাঁদের প্রত্যেককে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ হাজার থেকে ১ লক্ষ ডলার দেওয়ার সম্ভাবনাও নাকি আলোচনায় রয়েছে। সেই হিসাবে সর্বোচ্চ খরচ হতে পারে প্রায় ৬০০ কোটি ডলার। মার্কিন প্রশাসনের একাংশের মতে, কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় এই ব্যয় বহন করা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব। তবে এই ভাবনা কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

Advertisement