• facebook
  • twitter
Monday, 2 March, 2026

ইরানে সামরিক হামলা আমেরিকা ও ইজরায়েলের

নিহত ৫১ স্কুলছাত্রী, আহত ৬০

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত ক্রমেই ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ‘লায়ন রোর’-এ ইরানের কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার নিহত হওয়ার পর ইরান পালটা হামলা চালিয়েছে। কুয়েত, বাহারিন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের দাবি করেছে তেহরান।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেইরের ঘনিষ্ঠ মহল বার্তা দিয়েছে, “এটাই দেশকে রক্ষার সময়,” যা সংঘাতের তীব্রতা আরও স্পষ্ট করে। ইতিমধ্যে দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ইজরায়েলের হামলায় মৃত্যু হয়েছে ৫১ জন ছাত্রীর। আহত হয়েছে অন্তত ৬০ জন। স্থানীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, হামলার সময় স্কুলে ক্লাস চলছিল এবং কাছাকাছি ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) একটি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হলে পাশের স্কুলটি ধ্বংস হয়ে পড়ে। উদ্ধারকাজ চলছে, এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Advertisement

ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান পালটা হামলায় কাতারের আল-উদেইদ এয়ার বেস, কুয়েতের আল-সালেম এয়ার বেস, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর আল-ধাফরা ঘাঁটি এবং বাহারিনের ফিফথ ফ্লিট ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় ঢুকে পড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। তবে আবুধাবিতে অন্তত একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

Advertisement

বিশ্বস্ত কূটনৈতিক সূত্র বলছে, সামরিক প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ইতিমধ্যেই অঞ্চল থেকে সামরিক ও বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই উত্তেজনা দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানী সরবরাহেও প্রভাব ফেলতে পারে।

পাল্টা হামলার এই ঘটনা ফার্স প্রायद্বীপ এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা হারানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই পদক্ষেপ কেবল প্রতিশোধ নয়, বরং অঞ্চলের প্রভাব বজায় রাখার প্রচেষ্টা। একই সঙ্গে, স্কুল ধ্বংস ও শিশু মৃত্যু আন্তর্জাতিক মানবিক উদ্বেগও তৈরি করেছে।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ও জাতিসংঘ পরিস্থিতি নজরদারি করছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, তৎক্ষণাৎ কূটনৈতিক উদ্যোগ ছাড়া সংঘাত আরও ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে।

Advertisement