• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 7 July, 2026

সন্দেহভাজন আইএসআইএস জঙ্গিদের গোপন চ্যাট ফাঁস

নিশানায় ডানপন্থী নেতারা, সামনে এলো আত্মঘাতী হামলার ছক

সন্দেহভাজন আইএসআইএস জঙ্গিদের গোপন চ্যাট ফাঁস

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ সন্দেহভাজন আইএসআইএস জঙ্গির চ্যাট এবার প্রকাশ্যে। তদন্তে উঠে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সূত্রের খবর, এই চক্র একাধিক ডানপন্থী নেতাকে নিশানা করার পরিকল্পনা করেছিল। তদন্তে জানা গিয়েছে, গোটা দলের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৪০ জন। তবে মূল ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল মাত্র পাঁচজন।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে কেউ কেউ ইতিমধ্যেই আত্মঘাতী জ্যাকেট ও বোমা তৈরির প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিল। দেশজুড়ে একযোগে অভিযান চালিয়ে তাদের পাকড়াও করে পুলিশ। দিল্লির হজরত নিজামুদ্দিন রেল স্টেশন থেকে ধরা পড়ে মুম্বইয়ের দুই বাসিন্দা আফতাব ও আবু সুফিয়ান। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্রও। জানা গিয়েছে, তাদের গন্তব্য ছিল মুম্বই।

অন্যদিকে, ঝাড়খণ্ডের রাঁচি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় অন্যতম মূল অভিযুক্ত আশার দানিশ। ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর দানিশ ‘গাজওয়া’ নামে ছদ্মপরিচয়ে কাজ চালাত। এ বছর জানুয়ারিতে রাঁচিতে এসে ছাত্র সেজে গোপনে ঘাঁটি গাড়ে সে। বিস্ফোরক তৈরির সময় একবার আহতও হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। আবার মধ্যপ্রদেশের রাজগড় থেকে ধরা পড়ে কামরান কুরেশি এবং তেলঙ্গানা থেকে গ্রেপ্তার হয় হজাইফ ইয়েমেন।

অভিযুক্তদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর পরিমাণ কেমিক্যাল, আগ্নেয়াস্ত্রের কার্তুজ, একটি পিস্তল, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, ওজন মাপার যন্ত্র, বিকার সেট, সুরক্ষা গ্লাভস, রেসপিরেটরি মাস্ক, মাদারবোর্ড, প্লাস্টিকের কনটেনার ও বিভিন্ন তার। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এগুলোই ছিল বোমা তৈরির প্রস্তুতির জন্য ব্যবহৃত সরঞ্জাম।

গোয়েন্দাদের দাবি, ধৃতরা রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির বিশেষজ্ঞ এবং আইএসআইএস-এর স্লিপার মডিউলের সক্রিয় সদস্য। তাদের দায়িত্ব ছিল বিস্ফোরক বানানো, অস্ত্র সংগ্রহ করা এবং সংগঠনের শক্তি বাড়ানো। তরুণদের আকর্ষণ করতে তারা ব্যবহার করছিল ‘খিলাফত’ নামে এক বিশেষ রিক্রুটমেন্ট মডেল। পুরো চক্রের হ্যান্ডলার পাকিস্তানে বসে নেপথ্যে থেকে তাদের নির্দেশ দিচ্ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্রের খবর, জঙ্গিরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখত ‘সিগন্যাল’ অ্যাপের মাধ্যমে, যাতে ভারতীয় গোয়েন্দাদের নজরদারি এড়ানো যায়।