• facebook
  • twitter
Wednesday, 14 January, 2026

দিল্লিতে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে তৃণমূল

প্রতিনিধি দলের সদস্য সুখেন্দুশেখর রায়ের অভিযোগ, ‘দিল্লিতে এমন বহু বসতি রয়েছে, সেখানে কোনওরকম হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না।

নিজস্ব চিত্র

মীনাক্ষী ভট্টাচার্য, দিল্লি, ১৩ জুলাই— রবিবার সকালে দিল্লির বসন্তকুঞ্জের ‘জয় হিন্দ’ বস্তিতে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর দিল্লির প্রশাসন অত্যাচার চালিয়েছিল। সেই ঘটনার সরেজমিনে তদন্ত করতে তৃণমূলের রাজ্যসভার তিন সংসদীয় প্রতিনিধিদল বস্তি পরিদর্শন করেন। সেখানকার নিপীড়িত ও অত্যাচারিত বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন তৃণমূলের প্রতিনিধিরা। রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সাগরিকা ঘোষ এবং সাকেত গোখলের সমন্বয়ে গঠিত সংসদীয় প্রতিনিধিদলের তরফে বলা হয়, ‘বিজেপি দিল্লিতে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর যে অত্যাচার চালাচ্ছে, তা কখনওই মেনে নেওয়া হবে না। তৃণমূল সুপ্রিমো মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে আমরা সারা দেশের বাঙালি ভাইবোনদের পাশে রয়েছি।’

দিল্লির বসন্তকুঞ্জের ‘জয় হিন্দ’ কলোনিতে জল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়ে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া এবং বাংলাভাষী অভিবাসীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই এলাকায় বাংলার কোচবিহার ও উত্তরবঙ্গ থেকে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবারের বসবাস, যাঁরা মূলত গৃহস্থালি ও স্যানিটেশন পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত। মুখ্যমন্ত্রী সমাজমাধ্যমের পোস্টে লিখেছেন, ‘বাংলায় ১.৫ কোটির বেশি পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছেন যাঁরা সম্মানের সঙ্গে কাজ করছেন। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলাভাষীদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। বাংলা ভাষায় কথা বললেই কেউ বাংলাদেশি হয় না।’

Advertisement

‘জয় হিন্দ’ কলোনির মিন্টু প্রধান দৈনিক স্টেটসম্যানকে জানিয়েছেন, ‘বিধায়ক উদয়ন গুহের বাবা ফরওয়ার্ড ব্লকের নেতা কমল গুহ যখন সাংসদ ছিলেন, তখন আমাদের এই বস্তিতে এসেছিলেন এবং তিনিই নামে দিয়েছিলেন ‘জয় হিন্দ’ কলোনি। আমরা এখানে প্রায় ১০০০ জন থাকি, বলতে পারেন রাজবংশী সম্প্রদায়ের লোক।’ দেখা যাক, আদালত আগামীকাল কার পক্ষে রায় দেয়।

Advertisement

প্রতিনিধি দলের সদস্য সুখেন্দুশেখর রায়ের অভিযোগ, ‘দিল্লিতে এমন বহু বসতি রয়েছে, সেখানে কোনওরকম হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না। অথচ শুধুমাত্র বাংলাভাষী বলেই জয় হিন্দ কলোনির বাসিন্দাদের উপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে।’ সুখেন্দুর বক্তব্য, ‘বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলাভাষীদের এভাবেই নিশানা করা হচ্ছে। এখানেও শুধু বাংলাভাষী বলেই কোচবিহার এবং বাংলার অন্য প্রান্তের বাসিন্দাদের টার্গেট করা হচ্ছে।’ তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ জানিয়েছেন, ‘এই বাসিন্দারা যে জমিতে রয়েছেন, সেই জমির মালিকানা নিয়ে বিতর্ক চলছে, বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন। এখনও এ নিয়ে আদালত কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি। আগামীকাল দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্টে শুনানি রয়েছে, তা সত্ত্বেও কেন এখানকার বিদ্যুৎ ও জল বন্ধ করা হল, এই নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সুখেন্দু। তিনি জানিয়েছেন, এখানকার বাসিন্দারা আইনি লড়াই লড়ছেন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সেই লড়াইয়ে প্রয়োজনে সাহায্য করতে পারে তৃণমূল।’

Advertisement