পথকুকুর নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারগুলিকে মোটা অঙ্কের জরিমানা করার সতর্কবার্তার পরই এই হত্যার ঘটনা সামনে এসেছে।
জানা গিয়েছে, এর আগে হানামকোন্ডা জেলার শ্যামপেট এবং আরেপাল্লি গ্রামে ৩০০ পথকুকুরকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মেরে ফেলার পর দেহগুলি গ্রাম থেকে কিছুটা দূরে নিয়ে গিয়ে পুঁতে মাটির তলায় পুঁতে দেওয়া হয়। পরে এই খবর ছড়িয়ে পড়ে। এই অভিযোগে ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এঁদের মধ্যে ২ জন গ্রামের মহিলা সরপঞ্চ, এবং তাঁদের স্বামীরাও যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ। Advertisement
গ্রামবাসীদের একাংশ জানিয়েছেন, গত বছর ডিসেম্বরে গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্বাচন হয়। সেই সময় প্রার্থীরা গ্রামবাসীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন পথকুকুর এবং হনুমানের উৎপাত কমাতে তাঁরা উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন। ভোটে জেতার পর কুকুরদের হত্যা করে তাঁরা সেই প্রতিশ্রুতি রেখেছেন। তাঁদের অভিযোগ, শয়ে শয়ে কুকুরকে বিষের ইঞ্জেকশন দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পশুচিকিৎসকরা সেই সমস্ত কবর খুঁড়ে কুকুরদের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করছে। কীভাবে কুকুরগুলিকে হত্যা করা হয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই তা স্পষ্ট জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্তা এক সংবাদসংস্থা-কে জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে কুকুরগুলিকে বিষ খাইয়ে মারা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং কী ধরনের বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে তা জানতে ভিসেরা নমুনা ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
কামারেড্ডিতে কুকুর হত্যার ঘটনা ঘটার পর গত সোমবার পশুপ্রেমী আদুলাপুরম গৌতম মাচারেড্ডি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগের পরই পথকুকুর হত্যার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। গৌতমের অভিযোগ, গত দু’-তিন দিনে কামারেড্ডি জেলার অন্তত ৫টি গ্রামে এই হত্যাকাণ্ড চলে। কুকুরদের খুন করতে ভাড়াটে খুনির সাহায্য নেওয়া হয়েছিল এমন অভিযোগও উঠেেছে। গৌতম জানান, কামারেড্ডি ছাড়াও পালওয়াঞ্চা, ফরিদপেট, ওয়াদি গ্রমেও একইভাবে কুকুর নিধন হয়েছে।
তেলেঙ্গানা পুলিশ হানামকোন্ডা এবং কামারেড্ডি জেলাজুড়ে ৭ জন গ্রামপ্রধান-সহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহে কমপক্ষে ৫০০ পথকুকুরকে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করার ঘটনা রাজ্যের ইতিহাসে পশু নিধনে বৃহত্তম অভিযানগুলির একটি।